আল্লার কাছে বিচার থুইছি, যদি কারো দয়া অয়

ফরিদপুর সদর উপজে’লার আলীয়াবাদ ইউনিয়নের আলীয়াবাদ গ্রামের দুলি খাতুন, বয়স ১০০ বছর ছুঁই ছুঁই। স্বামী মা'রা গেছেন কত বছর হলো সঠিক হিসাব মনে নেই তাঁর।

আনুমান করে বলেন, ৩০ বছর আগে হবে হয়তো। স্বামী মা'রা যাওয়ার পর দুলি খাতুন মানুষের বাড়িতে বাড়িতে কাজ করে জী'বিকা নির্বাহ করতেন। এখন ভিক্ষাবৃত্তিই তাঁর শেষ সম্বল। আজকাল বয়সের ভারে ভাটা পড়েছে এই পেশায়ও। তাই অনেকটা অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটে এই বৃদ্ধার।

অথচ ভাগ্যে জুটেনি বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, ভিজিএফ, ভিজিডিসহ অ'সহায় মানুষের জন্য দেয়া সরকারের কোন সুযোগ-সুবিধা। বার বার সাহায্য চেয়ে জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লি'ষ্টদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে অবশেষে মানুষের কাছে হাত পেতে ভিক্ষা করে কোন মতে চলছে জীবন সংসার, কখনওবা দিন কাটে না খেয়ে।

দুলি খাতুন নিজ ভাষায় আরো জানান, ‘আগে এই বাড়ী ওই বাড়ী কাম-কাজ করি খাইতাম, অহন পারিনা। শইল্লে বল শক্তি পাই না, দুরের আডে (বাজারে) জাইতাম পারিনা। পেডের জ্বা'লা মেডাইতে মাইনষের কাছে হাত পাই'ত্যা খরাত (ভিক্ষা) কইরা জীবন বাঁচে। বর্ষা আইলে বৃ'ষ্টিরলাই বাইর অইতাম হারিনা, উয়াস (না খেয়ে) থাই দিন কাডাই। চেরমন (চেয়ারম্যান) মেম্বর বেকের দ্বারে গেছি, কেউ এক্কান কাড (ভাতার কার্ড) করি দেয়না। সরকার আংগোর লাই (আমা'দের জন্য) সুবিধা দেয়, হেরা মোগোরে দেয় না। আল্লার কাছে বিচার থুইছি,যদি কারো দয়া অয়’।

প্রায় ৩০ বছর আগে স্বামী মা'রা যান দুলির। ২ ছেলের মধ্যে এক ছেলে মা'রা গেছেন ক্যান্সার নামক মর'ণব্যাধীতে। আরেক ছেলে জন্ম থেকেই পঙ্গু' হয়ে ঘরে পড়ে আছেন। স্বামী মা'রা যাওয়ার পর সংসারে বোঝা হয়ে কিছুদিন চলার পর অ'সহায়ত্বের মাঝে তিনি হাত পেতে ভিক্ষা করতে বাধ্য হন।

প্রতিদিন ভিক্ষা করে যে টাকা পায় তা দিয়েই চলে দিন। প্রায় ১০০ বছর বয়স হলেও দুলি খাতুনের ভাগ্যে জুটেনি বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, ভিজিএফ, ভিজিডিসহ অ'সহায় মানুষের জন্য দেয়া সরকারের কোন সুযোগ সুবিধা। সচেতন মহলের প্রশ্ন আর কত বয়স হলে ভাতা পাবেন দুলি খাতুন?