ঘুষের বিনিময়ে চাকরিতে যোগ দিতে এসে প্রাণটাই হারালেন সাগর

সরকারি চাকরি নামের সোনার হরিণের দেখা পেতে দিয়েছিলেন ৯ লাখ টাকা। কিন্তু তাতে যোগ দেয়ার আগেই লা'শ 'হতে হলো জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজে’লার হাটখোলা এলাকার নন্দইল গ্রামের আব্দুর র'শিদের ছেলে সাগর ইসলামকে (২৫)।

একটি সরকারি মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক পদে যোগ দেয়ার উদ্দেশ্যে গত ২৩ মার্চ তিনি বাড়ি থেকে রাজধানীর পথে রওনা হন। ২৫ মার্চ তার কর্মস্থলে যোগদানের কথা ছিল। কিন্তু ওই দিন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজে’লার বৈদ্যেরবাজার-বারদী সড়কের একটি সেতুর নিচ থেকে তার লা'শ উদ্ধার করে পুলিশ। লা'শের পকে'টে থাকা মোবাইল ও সিমকার্ডের সূত্র ধরে তার পরিচয় বের করে সোনারগাঁ থা'না পুলিশ।

বিষয়টি জানানো হলে শুক্রবার (২ মার্চ) নি'হতের পরিবার লা'শ বুঝে নিতে নারায়ণগঞ্জে যায়।

সোনারগাঁ থা'নার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ২৫ মার্চ অ'জ্ঞাত একটি লা'শ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদ'ন্ত করে দা'ফন শেষে সেদিনই পুলিশ বাদী হয়ে সোনারগাঁও থা'নায় একটি হ'ত্যা মাম'লা করে (মাম'লা নম্বর- ২৭)। দা'ফনের আগে নি'হতের শার্টের পকে'টে থাকা মোবাইল ও সিমকার্ডের সূত্র ধরে পরিচয় জানা যায়। বৃহস্পতিবার (১ মার্চ) রাতে বিষয়টি জানানো হয় পাঁচবিবি থা'না পুলিশকে।

নি'হত সাগরের বাবা র'শিদ বলেন, ‘পাঁচবিবি উপজে’লার উচনা গ্রামের মৃ'ত মজিবর রহমানের ছেলে আব্দুর রউফের মাধ্যমে একই উপজে’লার হরেন্দা গ্রামের আফাজ উদ্দিনের ছেলে গো'লাম রসুল মাস্টার, মোহাম্ম'দ মাস্টারের ছেলে আব্দুল আলিম ও জয়পুরহাট জননী লাইব্রেরীর রবির সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। তারা আমার ছেলে সাগরকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে চাকরি দেয়ার কথা বলে ৯ লাখ টাকায় চুক্তি করে। ছেলের চাকরির আশায় তাদেরকে ৭ লাখ টাকা দেয়া হয়। বাকি টাকা নিয়োগপত্র পাওয়ার দেয়া হবে বলে জানানো হয়।’

এরইমধ্যে গো'লাম রসুল, আব্দুল আলীম ও রবি মোবাইল ফোনে র'শিদকে জানান,তার ছেলের নিয়োগপত্র হয়েছে। তারা বাকি ২ লাখ টাকা নিয়ে ঢাকায় আসার জন্য বলেন। তাদের কথায় গত ২৩ মার্চ র'শিদ ছেলেকে নিয়ে ঢাকায় যান। পরদিন (২৪ মার্চ) রাজধানীর কালশী এলাকায় র'শিদের হাতে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা ‘মহা-অধিদফতরসহ অঙ্গ বাহিনী সংস্থা সমূহের সাংগঠনিক কাঠামো ভূক্ত বিজ্ঞ'প্ত ি স্মারক নং-২৩.১৭০০০০.০১.০৪.০৩৮.১৯.১৬২২’ অনুযায়ী সুপারিশক্রমে অফিস সহায়ক পদে গত ২৫ মার্চ যোগদানের জন্য একটি নিয়োগপত্র দেয়া হয়।

নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে বাকি ২ লাখ টাকা ওই ব্যক্তিদের হাতে তুলে দিয়ে ছেলেকে রেখে বাড়ি ফিরে যান র'শিদ।
এদিকে, বাড়ি ফেরার পর ছেলের ফোনে যোগাযোগ করলে ফোন বন্ধ পান র'শিদ। আলিমকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি বলেন, ‘আপনার ছেলে ট্রেনিংয়ে আছে এজন্য ফোন বন্ধ।’

‘বৃহস্পতিবার (১ মার্চ) রাতে পুলিশের মাধ্যমে জানতে পারি আমার ছেলেকে হ'ত্যা করা হয়েছে। এরপর দালাল আলিমের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলে বন্ধ পাওয়া যায়।’

পাঁচবিবি থা'নার ভারপ্রা'প্ত কর্মকর্তা (ওসি) পলা'শ দেব বলেন, ‘এ ব্যাপারে সোনাগাঁ থা'নায় একটি হ'ত্যা মাম'লা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত দালালদের ব্যাপারে তদ'ন্ত অব্যা'হত রয়েছে, এরই মধ্যে আ. রউফ নামে এক দালালকে আটক করা হয়েছে।’