অ্যাম্বুলেন্সের অভাবে ১২ দিনের নবজাতক রেখে মায়ের মৃত্যু

বিয়ে হয়েছে ২০০৯ সালে। দীর্ঘ ১২ বছর স্বপ্ন ছিলো ‘মা’ হবেন তিনি। ইচ্ছে থাকলেও হচ্ছিল না তা। দেশে-বিদেশে চলে নানা চিকিৎসা, তৎপরতা হন একের পর এক পদ’ক্ষেপ নিয়ে। প্রকৃতি বারবার ‘হতাশ করে তাকে।

তবে গেল মাসের ২১ তারিখ হাসপাতা’লে সিজার করে ফুটফুটে এক মেয়ে সন্তান জন্ম’দেন নগরীর মেহেরচন্ডীর ফাতিমা শিপলা নামের এক নারী। আকিকা দিয়ে মেয়ের নাম রাখেন ইরপিজা খান মানহা। স্বামী সাইফুল ইস’লাম ও শিপলার সুখের সংসার পূর্ণতা পায়।

কিন্তু মাত্র ৬ দিনের মা’থায় অঘটনের শুরু। হাসপাতা’লে সিজারের ৪ দিনের মা’থায় আসেন বাড়িতে। দুই দিন পর প্রচণ্ড কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে শিপলার। এতে গু’রুত্বর অ’সুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।

চিকিৎসকদের পরাম’র্শে নিকটস্থ আরবার হেলথ সেন্টারে শিপলার করোনা পরীক্ষা করা হয়। টেস্টের রেজাল্ট আসে পজিটিভ। এরপর ধীরে ধীরে আরেও অ’সুস্থ হয়ে পড়েন শিপলা। চিকিৎসকের পরাম’র্শে রাজশাহী সিটি কপোরেশানের ২৬নং ওয়ার্ড থেকে অক্সিজেন সা’পোর্ট নেন।

পরে আবারেও অক্সিজেনের দরকার হলে নেন স্থানীয় চন্দ্রীমা থা’না থেকে। এরই মধ্য বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) রাতে মা’রাত্মক শ্বা’সক’’ষ্টে পড়েন শিপলা। রাতভর বৃ’ষ্টি সাথে বাইরে লকডাউন চলায় পথে নেই কোন যানবাহন, দিক-বিদিক ছুটেছিলেন তার স্বামী সাইফুল ইস’লাম।

সে রাতে অ্যাম্বুলেন্স সহায়তা চেয়ে স্বামী সাইফুল ইস’লাম ফোন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও ফা’য়ার সার্ভিসে। কিন্তু শ্বা’সক’’ষ্ট ও করোনার খবর শুনে সহযোগীতা দিতে অ’পারগতা প্রকাশ করেন তারা।

পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতা’লেও ফোন করেন তিনি কিন্তু সেখান থেকেও পাওয়া যায়নি কোন সাড়া। পরে বেসরকারি দুটি হাসপাতা’লে অ্যাম্বুলেন্স সহায়তা চাইলে তারাও অ’পারগতা জানায়। প্রায় ৬ ঘণ্টা প্রা’ণপণ চে’ষ্টা চালিয়েও পাননি একটি অটোরিকশা।

এমন উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় রাত কাটিয়ে শিপলার স্বামী বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে রাজশাহী মডেল হাসপাতা’লের একটি অ্যাম্বুলেন্স শিপলাকে হাসপাতা’লে নিয়ে যায়। সকাল ৭ টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতা’লে ভর্তি করা হয় তাকে।হাসপাতা’লের ওয়ার্ডে তখন স্বামী সাইফুল ইস’লামের হাতের ওপর মা’থাদিয়ে নিথর পড়ে থাকেন তিনি। দেয়া হয় হাইফ্লো অক্সিজেন। কিন্তু এর কিছুক্ষণ পরই স্বামীর হাতের ওপারই মৃ’’ত্যুর কোলে ঢলে পড়ে সদ্য মা হওয়া শিপলা।

মা’য়ের স্প’র্শ, স্নেহ বুঝে ওঠার আগেই এতিম হন মাত্র ১১ দিনের নবজাতক শিশু মানহা। মুহূর্তে দীর্ঘদিন পর পূর্ণতা পাওয়া সংসারে স্বজনদের মা’থায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে। পরিবারের সকলের স্নেহ আদরের শিপলার মৃ’’ত্যুতে শোকে পাথর হয়ে পড়েছে পরিবারের সদস্যরা। মা হারানো শিশুটির কা’ন্না থামাতে পারছেন না কেউই।

শুক্রবার শিপলার স্বামী বলেন, শিশুটির যত্নে তার বড় ভাবি ও ভায়ের মেয়েরা দায়িত্ব নিয়ে লালন পালন করছেন। মা হিসেবে আমা’র ভা’বিকেই চিনবে আমা’র মেয়ে। স্ত্রীর মা হবার স্বপ্নের কথা বলতে গিয়ে গলা ভা’রি হয়ে আসে তার। দোয়া চান করোনার থাবায় হারিয়ে ফেলা স্ত্রী ও নবাগত সন্তানের জন্য। আসফোস করেন মাত্র ১০ কিলোমিটার পথের জন্য স্ত্রীর জন্য কোন অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করতে না পারায়।