হাতে ক্যানোলা দেখে কোন গাড়ি নিল না, রাস্তায় প্রাণ হারালো যুবক

করোনাভাইরাসের মৃত্যু থাবা থেকে রক্ষা পাচ্ছে না কেহই। কিছু মানুষের স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চলা দিন দিন আরও ভয়ংকর হচ্ছে করোনা। এতে বাড়ছে সংক্রমন ও মৃত্যু ঝুকি। এখনই যদি করোনার লাগাম ধরে না রাখা যায় তবে ভবিষ্যতে দেশটি বড় বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

নাটোর শহরের স্টেশন বাজার এলাকা থেকে মনিরুল ইসলাম নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মনিরুল স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী ছিলেন। তার বাড়ি জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার বৃ-পাথুরিয়া গ্রামে।

আজ শনিবার (০৩ জুলাই) সকালে খবর পেয়ে বাজার এলাকার একতা মোড় থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। পরে তার স্ত্রী গিয়ে স্বামীর মরদেহ শনাক্ত করেন।

স্থানীয়রা জানান, হাতে ক্যানোলা লাগানো এক যুবক সকালে বাজারের একটি দোকানে এসে নাস্তা করেন। এরপর তিনি রাস্তায় বের হয়ে একতা মোড়ে পৌঁছালে কাঁপতে শুরু করেন। তখন তিনি একটি অটোরিকশায় উঠার চেষ্টা করেন। কিন্তু চালক তাকে অটোরিকশায় তোলেননি। তার সঙ্গে কেউ না থাকায় এবং হাতে ক্যানোলা থাকার সঠিক কারণ বলতে না পারায় কোনো চালকই তাকে গাড়িতে তুলতে রাজি হননি। এভাবে কিছুক্ষণ কেটে যায়। পরে ওই যুবক মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

নিহতের স্ত্রী জানান, তার স্বামী মনিরুল ইসলাম শুক্রবার দুপুরে প্রচণ্ড গ্যাস্ট্রিকের ব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় তাকে শহরের মডেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার ভোরে নার্সদের নিষেধ সত্ত্বেও তিনি হাঁটতে বের হন।

নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মতিন জানান, মনিরুল গুরুদাসপুর উপজেলার বৃ-পাথুরিয়া এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে গ্যাস্ট্রিককের সমস্যায় ভুগছিলেন।

শুক্রবার কানাইখালি এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা নিয়ে ভর্তি হন। আজ সকালে হাঁটতে বের হন। শহরের স্টেশন এলাকায় গিয়ে নাস্তা করে হাসপাতালে ফিরছিলেন। এ সময় রাস্তার ওপরে পড়ে যান। সেখানেই তার মৃত্যু হয়। মরদেহ উদ্ধার করে সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।