মায়ের টাকায় বাড়ি করে মাকে পাগল সাজিয়ে রিহ্যাবে রেখে আসলো ছেলে

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে মায়ের টাকায় বাড়ি করে ছোট ছেলে। এরপর মাকে মারধর করে পাগল সাজিয়ে রেখে আসে রিহ্যাব সেন্টারে। লোক মারফত খবর পেয়ে উদ্ধার করেন ফ্রান্স প্রবাসী বড় ছেলে।

এমনই অভিযোগ করেছেন এক অশীতিপর বৃদ্ধা মা নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ২১নং ওয়ার্ডের বন্দরের ছালেহনগর এলাকার মৃত আব্দুল আজিজ ওরফে তোতা মিয়ার স্ত্রী মমতাজ বেগম।

মমতাজ বেগমের তিন ছেলে ও দুই মেয়ে। এদের মধ্যে দুই ছেলে ও দুই মেয়ে ফ্রান্স প্রবাসী। বড় ছেলে মমতাজ আহমেদ মতি ও মেজো ছেলে ইমতিয়াজ আলী, মেয়ে রানু ও রোজি ফ্রান্সে বসবাস করছেন দীর্ঘদিন যাবত। ছোট ছেলে বাবর আলী ওরফে রজ্জব দেশেই থাকেন।

তিন বছর আগে আব্দুল আজিজ মিয়া মারা যান। এরপর মমতাজ বেগমের ওপর চালু হয় নানারকম নির্যাতন। ছোট ছেলে রজ্জব ভরণপোষণের কথা বলে ইতোমধ্যে মমতাজ বেগমের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে রুপালী আবাসিক এলাকায় বাড়ি নির্মাণ করছেন।

মমতাজ বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার কাছ থেকে ছোট ছেলে রজ্জব মাসে ১০০০ টাকা করে দেওয়ার কথা বলে নগদ ১০ লাখ টাকা নিয়ে যায়। আমি ডিপিএস ভেঙে এই টাকাগুলো ওকে দেই।

পরে ভরণপোষণের জন্য টাকা চাইলে আমার ওপর অমানুষিক ও অমানবিক নির্যাতন চালায় রজ্জব। লোকলজ্জার ভয়ে অনেক দিন আমি চুপ থেকেছি। কিন্তু শেষমেশ সহ্য করতে না পেরে থানায় অভিযোগ করতে বাধ্য হয়েছি।

তিনি বলেন, আমার ছোট মেয়ে ফাহিমা আক্তার রোজী আমার কাছ থেকে জায়গা কিনার কথা বলে ১৩ লাখ টাকা নেয়, তার কাছেও পাওনা টাকা চাইলে সে আমাকে গলাচেপে ধরে এবং নির্মম নির্যাতন করে। আমি পঞ্চায়েতের মাধ্যমে একবার সালিশ বসিয়েও এ বিষয়ে কোনো সুরাহা পাইনি।

বর্তমানে আমি আমার বড় ছেলের বাসায় থাকছি। ছোট ছেলে রজ্জব কোন ভরণপোষণের টাকা-পয়সা দিচ্ছে না। এমনকি আমার পাওনা ১০ লাখ টাকা ও আত্মসাৎ করেছে। আমি জীবনের শেষ সময়ে এসে বহু কষ্টে দিনযাপন করছি। প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকার ওষুধ লাগে।

মমতাজ বেগম বলেন, মাসখানেক আগে ছোট ছেলে রজ্জব আমার পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে নির্যাতন করে টয়লেটে আটকে রাখে। পরে রাতে গোপনে অ্যাম্বুলেন্সে করে শিকল বাঁধা অবস্থায় ঢাকা শ্যামলী এলাকার সেফ হাউস নামে একটি রিহ্যাব সেন্টারে পাগল সাজিয়ে রেখে আসে। পরে বড় ছেলে প্রবাসে থেকেই আমাকে বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে সেখান থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসে।

এ ব্যাপারে মমতাজ বেগমের ছোট ছেলে রজ্জব বলেন, আমার মাকে আমি নির্যাতন করেছি না কী করেছি, তা আমি বুঝবো; তাকে তো শুধু পাগলামির জন্য পিটিয়েছি। প্রয়োজন হলে আবারো মেরে পাগলা গারদে পাঠাব।