ক্রিকেটার থেকে অভিনেতা, কঠিন লড়াইয়ের মধ্যেও হার না মেনে মানুষকে হাসাতেন শুভাশিস মুখোপাধ্যায়

টালিউডের অন্যতম জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা শুভাশিস মুখোপাধ্যায়ের নাম সবাই জানেন। লোককে হাসানোর তার ক্ষমতা তাকে অন্যান্য অভিনেতাদের থেকে আলাদা করে দেয়। এক সময় কোনও ছবিতে হাসির ভূমিকায় শুভাশিসকে ছাড়া অন্য কারও কথা ভাবতে পারতেন না পরিচালকরা।

তাঁর জন্ম কলকাতায়। তিনি স্কটিশ চার্চ স্কুল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। এরপরে শেঠ আনন্দরাম জয়পুরিয়া কলেজ থেকে বি.কম ডিগ্রি লাভ করেন। তাঁর অভিনয় জীবনের শুরুতে, অনেকেই ভেবেছিলেন তিনি অভিনেতা মনু মুখোপাধ্যায়ের ছেলে।

তবে এটি সত্য নয়, শুভাশিসের বাবা একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। শুভশিস অল্প বয়স থেকেই খুব ভাল ক্রিকেট খেলতেন।

তবে তার পারিবারিক পরিস্থিতি এতটাই খারাপ ছিল যে বাস্তবে তিনি স্বপ্নে ক্রিকেট খেলার কথা ভাবতেও পারেননি। শুভশিস একটি কসমেটিক সংস্থায় কাজ করে তাঁর কেরিয়ার শুরু করেছিলেন। ১৯৮৬ সালে শুভশিস মুখোপাধ্যায় পূর্ণেন্দু পাত্রীর ‘ছোটো বকুলপুরের যাত্রী’ দিয়ে অভিনয়ের সূচনা করেছিলেন।

তারপরে তিনি তার অভিনয় দিয়ে সবাইকে মুগ্ধ করেন। তাকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি। একে একে কত ভালোবাসা, শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ, বকুল প্রিয়া, গুরু শিষ্য, প্রতিদ্বন্দ্বী, দাদা ঠাকুর, সংসার সংগ্রাম, সূর্য, সজনী, রাজমহল, আক্রোশ, খোকাবাবু, গুগোল-এর কীর্তি, মেঘে ঢাকা তারা, আরও কত ছবিতে তিনি অভিনয় করেছেন।

২০১২ সালে টেনিদার মতো মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করে সকলকে চমকে দেন। এছাড়অ‘মহালয়া’ ছবিতে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের চরিত্রে, ‘ব্রহ্মা জানেন গোপন কম্মটি’ ছবিতে গোরা পুরোহিতের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। তিনি জড়োয়ার ঝুমকো, খেলাঘর, কলের বউ, তারানাথ তান্ত্রিক, রাখি বন্ধনের মতো বিভিন্ন ওয়েব সিরিজ ও সিরিয়ালেও অভিনয় করেছেন।