খাঁচায় ঢুকিয়ে দুই শিশুকে নির্যাতন : সেই আ.লীগ নেতার ভাই গ্রেফতার

কক্সবাজারের রামুতে টাকা চুরির অভিযোগে মুরগির খাচাঁয় বন্দি করে দুই শিশুকে ইলেকট্রিক শক ও জ্বলন্ত সিগারেটের ছ্যাঁকা দিয়ে নির্যাতনের ঘটনায় মামলা হয়েছে।

এ ঘটনায় সোমবার (৫ জুলাই) রাতে আরমানুল হক নামের একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা মো. রিফাত করিমের ভাই ও নির্যাতনে সহায়তাকারী।

মঙ্গলবার (৬ জুলাই) দুপুরে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ারুল ইসলাম এতথ্য নিশ্চিত করেন। মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা মো. রিফাতসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানান ওসি।

গত বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) দেড়শ টাকা চুরির অভিযোগে শিশু সোহেল ও ইব্রাহিমকে খাঁচায় বন্দি করে নির্যাতন করেন রামু উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. রিফাত করিম (৩২)। তিনি ঈদগড় ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মো. শরিফ পাড়ার নেজাম উদ্দিনের ছেলে।

নির্যাতনের শিকার ওই দুই শিশু হলো-একই এলাকার প্রতিবন্ধী মো. নুরুল আলম ছেলে সোহেল (১০) ও রশিদ আহমদের ছেলে ইব্রাহিম (১০)।

এ ঘটনার চারদিন অতিবাহিত হলেও সরকারদলীয় দুই প্রভাবশালী নেতার হস্তক্ষেপে মামলা না নেয়ার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে এমনকি উল্টো নির্যাতিত দুই পরিবারকে এলাকা ছাড়তে হুমকি দেন অভিযুক্তরা।

এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও প্রকাশ পাওয়ার পর সোমবার একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করে জাগোনিউজ২৪.কম।

ঈদগড় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ ভুট্টোর বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ঈদগড় বাজারে আওয়ামী লীগ নেতা রিফাত করিমের একটা মুরগির দোকান আছে। সেখানে পেটের দায়ে দুবেলা ভাতের বিনিমিয়ে কাজ করে শিশু সোহেল। ওই দোকান থেকে মাত্র দেড়শ টাকা চুরির অভিযোগে শিশু সোহেল ও তার বন্ধু ইব্রাহিমকে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত টানা ১০ ঘণ্টা মুরগির খাঁচায় বন্দি রেখে শত শত মানুষের সামনে নির্যাতন করেন রিফাত। এক পর্যায়ে স্থানীয় কয়েকজন শিশুদের ছেড়ে দিতে অনুরোধ করলে তাদের ওপরে হামলা চালান অভিযুক্ত ও তার লোকজন।

এদিকে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের কথা জানতে পেরে সোমবার রাতেই নির্যাতিত শিশু ইব্রাহিমের বাড়িতে হামলা ও সোহেলকে তুলে নিয়ে বাড়িতে আটকে রাখেন অভিযুক্ত রিফাত করিম।

খবর পেয়ে গভীর রাতে অভিযান চালায় রামু থানা পুলিশ। এসময় আটকে রাখা সোহেলকে উদ্ধার ও দুইজনকে আটক করা হয়। মঙ্গলবার সকালে মামলা রেকর্ড করে রামু থানা পুলিশ।

তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে রামু থানার ওসি আনোয়ারুল আলম জানান, এ ঘটনায় রিফাতকে প্রধান আসামি করে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আটকদের মধ্যে রিফাতের ভাই আরমানুল হককে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। বাকি একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।