মামুনুলের নৈতিক স্খলন, তার পিছনে কি নামাজ জায়েজ ?

রিসোর্টে যাওয়া কোনো অ’পরাধ না। বউ নিয়ে যাওয়াটা অ’পরাধের মধ্যেই পরে না। তবু কেন হেফাজতের মামুনুলকে এই ল'জ্জাজনক পরিস্থিতে পরতে হলো। তিনি কি আসলেই বিয়ে করেছেন ?

রিসোর্টের রেজিস্টারেও নাকি তিনি প্রথম স্ত্রীর নাম লিখেছেন। যাকে নিয়ে গেছেন তার নাম লিখেননি। হ্যা ফাঁ'ন্দে পরে তার দাবি তিনি তার একদা ঘনিষ্ঠ বন্ধুর স্ত্রী’কে বিয়ে করেছেন। ইসলাম ধর্মে জেনা করা অর্থাৎ পর নারী বা পু’রুষের সাথে যৌ'ন সম্পর্ক স্থাপন ( বিয়ে ছাড়া) পাপ।

মামুনুলদেরই সতীর্থ মিজানুর রহমান আজহারীই একটি ওয়াজে বলেছেন, কেউ যদি সমাজকে না জানিয়ে গোপ'নে বিয়ে করে সেটাও জেনার পর্যায়ে পরে।” সেই সুত্রে মামুনুলের “নৈতিক স্খলন” ঘটেছে। সুতরাং নৈতিক স্খলন ঘটিয়ে ধর্ম কর্ম নিয়ে জাতিকে জ্ঞান দেয়ার নৈতিক অধিকার কতটুকু মামুনুলের আছে তা দেশের বিজ্ঞ আলেম'দের বিচার করা উচিত।

রিসোর্টে যাওয়া পাপের কিছু না। বউ,পরিবার,বন্ধু-বান্ধব নিয়ে যে কেউ যেতে পারে। অবসর সময়ে অনেকেই তাই করেন। হেফাজতের অনেকেই বলছেন, দেশে গত কিছুদিন ধ্বং'সাত্মক কার্যকলাপ করতে গিয়ে তাদের অনেক নেতা কর্মী নি'হত-আ'হত হয়েছে। হেফাজতের শীর্ষ নেতা মামুনুল। বন্ধুর বউকে নিয়ে তিনি অবকাশ যাপনে রিসোর্টে গেছেন। হেফাজতিরা আপনারাই একবার তাকে জিজ্ঞেস করেনতো, তিনি এর আগে আ'হত-নি'হত কোনো কর্মীর বাড়িতে সমবেদনা জানাতে গিয়েছেন কিনা ? তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন কিনা ?

গতকাল মামুনুল ফেসবুকে একটি মান'বিক (!) বিয়ের গল্প লিখেছেন। তিনি নাকি তার বন্ধুর স্ত্রীকে বিয়ে করে পূণ্যের কাজ করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়াতে আরেক গ্ৰুপ বলছে মামুনুলের কারণেই নাকি তার বন্ধুর সংসার ভেঙেছে। যাক সেই বিতর্কে না যাই। কিন্তু ধ’রা খাওয়ার পর পর মামুনুল তার বৌকে বলেছেন যে, বন্ধু জাফর শহিদুলের স্ত্রী’কে নিয়ে তিনি রিসোর্টে গিয়েছিলেন ।

যদি সবাইকে জানিয়েই তিনি বিয়ে করেন তাহলে তার স্ত্রীর কাছে তিনি বন্ধুর স্ত্রী বললেন কেন ? কেনই বা মামুনুলের বড় বোন ফোন করে মামুনুলের বৌকে বললো বিয়ের বিষয়টি স্বীকার করে যাবার জন্য। মাওলানা সাহেব আপনিতো নাকি শায়খুল হাদিস ! আপনি এমন একজন শায়খুল হাদিস, শুধু জানেন ইসলামে চার’টা বিয়ে করা জায়েজ। কিন্তু দ্বিতীয় বিয়ে করতে গেলে যে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি লাগে সেটা আপনি জানতেন না মাওলানা সাহেব ? নাকি ধর্মকে বাপ দাদার পৈতৃক সম্পত্তি বানিয়ে নিজেদের সুবিধামতো ব্যাখ্যা বানিয়ে নিচ্ছেন।

হেফাজতের সম্মান রক্ষার্থে আপনার পক্ষে অনেকেই হয়তো বক্তৃতা বিবৃতি দিবেন। হয়তো তাদেরও এইরকম লাইলী মজনু মার্কা কাহিনী থাকতে পারে। তখন আপনি তাদের পক্ষে বড় গলায় কথা বলবেন। সমাজের সাধারণ মানুষ যদি এই সব করে তা সমাজকে খুব একটা আলোড়িত করে না। আপনাদের মতো আলেম ওলামা'রা যখন এইসব অ’পকর্মে লি'প্ত হন এবং নৈতিকস্খলন ঘটান তা কিন্তু সমাজকে ভাবিয়ে তোলে। একজন নীতি নৈতিকতাহীন মানুষ সমাজ’কে ধর্মের কি বাণী শিখাবে। লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে নিয়ে গিয়ে ধর্মের কি বয়ান মানুষ আপনাদের কাছ থেকে শুনবে ? নৈতিক স্খলনের অধিকারী একজনের পিছনে কি নামাজ পড়া জায়েজ ? এই বিষয়ে ইসলাম কি বলে ?

আশরাফুল আলম খোকন (ফেসবুক থেকে)

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

বিডি২৪লাইভ.কম