মিল শ্রমিকের ছেলে থেকে রজনীকান্তের জামাই, দ্বাদশ ফেল ধনুষ পাড়ি দিয়েছেন হলিউডেও

কথায় আছে ইচ্ছে থাকলে দারিদ্র কখনই প্রতিভার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। এই বক্তব্যের জলজ্যান্ত উদাহরণ দক্ষিণী সুপারস্টার ধনুষ (Dhanush) । ছোটবেলা তার কেটেছে দুর্দান্ত অর্থকষ্টে।

সুদীর্ঘ ১১ কিলোমিটার হেঁটে মিলে কাজে যেতেন ধনুষের বাবা। পড়াশোনার প্রতি কোনো কালেই বিশেষ আগ্রহ ছিলনা অভিনেতার, এমনকি দ্বাদশ শ্রেণীও পাশ করতে পারেননি তিনি। একটা ঘরেই পরিবারের সকলে মিলে থেকেছেন।

কিন্তু তার প্রতিভাই আজ তাকে করে তুলেছে দক্ষিণের সুপারস্টার৷ এমনকি বলিউড পেরিয়ে হলিউডেও পসার জমিয়ে ফেলেছেন ধনুষ।

দারিদ্র কোনোদিনই তার প্রতিভাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি,যে ঘরে একসময় নুন আনতে পান্তা ফুরোতো,সেই ঘরের ছেলে হয়েই ভারতীয় তারকাদের উপার্জন নিয়ে তৈরি ফোর্বসের ১০০-র তালিকায় ৬ বার জায়গা করে নিয়েছেন ধনুষ।

শুধু তাই নয় ‘থালাইভা’ রজনীকান্তের (Rajnikant) এর জামাই তিনি। ধনুষ কেবল অভিনেতা নন, তিনি একাধারে একাধারে অভিনেতা, প্রযোজক, পরিচালক, লেখক এবং সঙ্গীতশিল্পীও। খেলার ছলে গাওয়া তার ‘কোলাভেরি ডি’ আন্তর্জাতিক সঙ্গীতের চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

অথচ এত প্রতিভাবান এই ছেলেকে ইন্ডাস্ট্রি প্রথমে দূর ছাই করতে ছাড়েনি, তার গায়ের রঙ এবং রূপ নিয়ে তাকে শুনতে হয়েছে অসংখ্য কটুক্তি। একসময় রাগে, দুঃখে তিনি ভেবেছিলেন ইন্ডাস্ট্রি ছেড়ে দেবেন কিন্তু পরে তিনিই আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছেন।

তামিল ছবির এই সুপারস্টারের আসল নাম ভেঙ্কটেশ প্রভু কস্তুরী রাজা। ভেঙ্কটেশ এবং প্রভু এই দুই নামেই ইন্ডাস্ট্রিতে নামজাদা লোকজন থাকায় নিজের নামই বদলে ফেলেন তিনি, একটি ছবি থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই তিনি নিজের নাম রাখেন ধনুষ।

ধনুষের জন্ম ১৯৮৩ সালে একটি দরিদ্র তামিল পরিবারে, তার বাবা কস্তুরী রাজাও এখন ইন্ডাস্ট্রির বেশ পরিচিত নাম। কিন্তু একসময় এই প্রতিভাবানকেও কাজের জন্য ১১ কিমি পথ হেঁটে যেতে হত, গাড়ি ভাড়া দেওয়ার টাকা টুকুও ছিলনা তার কাছে। ওই কাজ করার সাথে সাথেই চিত্রনাট্য লিখতেন তিনি, এবং পেটের দায়ে খুব কম পয়সাতেই সেসব বেচেও দিতেন তিনি।

পড়াশোনা এক্কেবারে না পসন্দ ছিল অভিনেতা ধনুষের, তাই স্কুলের গন্ডীও পেরোতে পারেনি সে। ২০০২ সালে কস্তুরী তাকে সুযোগ করে দেন ‘থুল্লুভাদো ইয়ামাই’ ছবিতে৷ আর প্রথম ছবিতেই বাজিমাত করে সে।

মাত্র ৩৭ বছর বয়সি এই নায়ক ইতিমধ্যেই ৫০টির কাছাকাছি ছবিতে অভিনয় করে ফেলেছেন। ১৩টি সিমা অ্যাওয়ার্ড, ৯টি বিজয় অ্যাওয়ার্ড, ৭টি দক্ষিণ ফিল্মফেয়ার, ৫টি ভিকাতন অ্যাওয়ার্ড, ৫টি এডিসন, ৪টি জাতীয় পুরস্কারও এসে গিয়েছে তাঁর ঝুলিতে! বলিউড পেরিয়ে সে এখন পাড়ি দিয়েছে হলিউডেও, হ্যাঁ এই শ্যামবর্ণ ছেলেটিই, যাকে একদিন অবজ্ঞা করেছিল গোটা ইন্ডাস্ট্রি।