প্রকৌশলের শিক্ষার্থী হয়েও তিনি ‘ফুড ডেলিভারি গার্ল’

অনলাইনের বিভিন্ন পণ্য বা খাবার সামগ্রী ডেলিভারির কাজে সাধারণত পু’রুষদেরকেই দেখা যায়। তাই বলে কি, নারীরা পারবে না? তারই সফল দৃ'ষ্টান্ত গড়েছেন কু'ষ্টিয়ার থা'নাপাড়ার ১৯ বছরের তরুণী রজনী।

পরিবারের পাশে দাঁড়াতে ও সাবলম্বী 'হতে রজনী একজন ফুড ডেলিভারি গার্ল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। খুলনা বিভাগের মধ্যে একজন ফিমেল রাইডার হিসেবে দৃ'ষ্টান্ত গড়েছেন তিনি।

বয়স তার সবে ১৯ বছর। ইচ্ছে ছিলো লাল সবুজের জার্সি গায়ে চেপে পুরো ক্রিকেট বিশ্বকে শাসন করবেন। এ লক্ষ্যে নিজেকে তেমন করে গড়ে তোলারও আপ্রাণ চে'ষ্টা করেছিলেন। মিলেছিলো ফলাফলও। ২০১৮ সালে অনূর্ধ্ব-১৮ তে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন।

তার স্বপ্ন সত্যি 'হতে যাচ্ছিলো, কিন্তু বিধিবাম! হঠাৎ এক দু'র্ঘটনায় মাথায় আঘা'ত পান রজনী। তিনি বুঝতেও পারেননি এখানেই তার স্বপ্নের ইতি টানতে হবে। মাথায় আঘা'ত পাওয়ার কারণে ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্নভঙ্গ হয় তার। অদম্য মানসিকতা ও বিজয়ী হওয়ার বাসনাই রজনী অধিকারীকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জুগিয়েছে।

এ প্রেরণা থেকে সাহস নিয়ে নতুনভাবে নিজেকে মেলে ধরতে মোটরসাইকেলে চেপে কু'ষ্টিয়া শহরের এ মাথা ও মাথা চষে বেড়াচ্ছেন রজনী। তিনি কাজ করছেন অনলাইন ফুড ডেলিভারি প্রতিষ্ঠান ফুডপান্ডায়।

ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী প্রতিদিন এখান থেকে সেখানে ক্রেতাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছেন খাবার হাতে। এ চ্যালেঞ্জিং পেশা গ্রহণের ক্ষেত্রে পরিবারের পক্ষ থেকে পূর্ণ সমর'্থন পেয়েছেন রজনী।

পরিবারের সমর'্থন তার আত্মবিশ্বা'সকে আরো দ্বিগু'ণ করেছে। ‘মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়’। তাই রজনী স্বপ্ন দেখা বন্ধ করেননি। নিজের স্বপ্নগু'লোকে বাস্তবে রূপ দিতে কাজের পাশাপাশি লেখাপড়ায়ও অধিক মনোযোগী।

রজনী বর্তমানে কু'ষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপ্লোমা চতুর্থ সেমিস্টারে পড়ছেন। কাজ শেষে বাসায় ফিরে বসেন পড়ার টেবিলে। স্বপ্ন দেখেন বিদেশ গিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করবেন।

তার এ সংগ্রামী পথচলা সম্পর্কে জানতে চাইলে রজনী বলেন, ‘একাগ্রতা, নিষ্ঠা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমেই শত প্রতিকূলতা পেরিয়ে একজন মানুষ তার কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে। আমি আমার স্বপ্ন পূরণের বেশ কয়েকটি সিঁড়ি অতিক্রম করেছি।’

‘পরিবার সমর'্থন ছাড়া তা কখনো সম্ভব 'হত না। আমিই হয়তো একমাত্র নারী যে, কু'ষ্টিয়া জে’লায় ফুড ডেলিভারির কাজ করি। অনেক নারীরাও হয়তো এ পেশা পছন্দ করেন না। এ কারণেই এ পেশায় নারী লোকবলের সংখ্যা কম। আমিই একমাত্র ফিমেল রাইডার পুরো খুলনা বিভাগের মধ্যে। তবে আমি সাহস নিয়ে এগিয়েছি। এ কাজ করে সত্যিই আমি গর্বিত।’

প্রায় এক বছর ধরে রজনী এ কাজ করছেন। এক বন্ধুর সহযোগিতায় রজনী ফুড ডেলিভারি গার্ল হিসেবে নিজের পায়ে দাঁড়ান। পরিবার, প্রতিবেশী থেকে শুরু করে আত্মীয়-স্বজন সবার উৎসাহ পেয়েই এগিয়ে যাচ্ছেন রজনী।

কর্মক্ষেত্রে নিরাপ'ত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন ‘নিরাপ'ত্তার ক্ষেত্রে আমি সবসময় অফিসের সাহায্য পেয়ে থাকি। আমি কাজের সুবাদে কখন কোথায় যাই তা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হয়।’