এ দেশে অন্যায়ের বিরু’দ্ধে অব’স্থান নেয়াটাই অন্যায়: সরোয়ার আলম

বহুল আলোচিত ম্যাজিস্ট্রেট সরোয়ার আলম। র‍্যাব'ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকাকালীন একের পর এক অ'ভিযান পরিচালনা করে আলোচনায় ছিলেন তিনি। করোনাকালীন সময়েও তিনি তার কাজ থেকে পিছপা হননি। এবার সেই আলোচিত ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমের আ'ক্ষেপ ঝরল ফেসবুক স্ট্যাটাসে।

সোমবার (৮ মা'র্চ) রাত ১২টা ১০ মিনিটে নিজের ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে নিজের চাকরি জীবনের তিক্ত অ'ভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।

স্টাটাসে তিনি লেখেন, ‘চাকরি জীবনে যেসব কর্মক'র্তা-কর্মচারী অন্যায়, অনিয়মের বিরু'দ্ধে লড়েছেন তাদের বেশির ভাগই চাকরি জীবনে পদে পদে বঞ্চিত ও নিগৃহীত হয়েছেন। এ দেশে অন্যায়ের বিরু'দ্ধে অবস্থান নেয়াটাই অন্যায়!’

এর আগে গত বছরের রমজান মাসে বেশ কয়েকটি ভেজালবিরোধী অ'ভিযান পরিচালনা করে নিয়মিত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন সারোয়ার। এসব আলোচনার মধ্যেই গত বছরের নভেম্বরের দিকে তাকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে বদলি করা হয়। বর্তমানে তিনি এখানেই কর্মর'ত আছেন।

সারোয়ার আলম প্রথম আলোচনায় আসেন ২০১৪ সালে। ফার্মগেটে ওভার ব্রিজ বাদ দিয়ে যারা সড়কে রাস্তা পারাপার হচ্ছিলেন তাদের নামমাত্র জরিমানা করে সচেতন করেছিলেন তিনি। তার আলোচিত অ'ভিযানের মধ্যে অন্যতম ছিল ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ফকিরাপুলে ক্যাসিনোতে অ'ভিযান।

গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর ফকিরাপুলের ইয়ংমেনস ক্লাব, ওয়ান্ডারার্স ক্লাব, মুক্তিযো'দ্ধা সংসদে অ'ভিযান চালান তিনি। এ সময় ১৪২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন। উ'দ্ধার করা হয় ক্যাসিনো থেকে উপার্জিত অবৈধ ২৪ লাখ ২৯ হাজার টাকা।

এরপর গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর নিকেতনে যুবলীগ নেতা জি কে শামীমের অফিসে অ'ভিযানে যায় র‌্যাব'। সেখানেও ছিলেন সারোয়ার আলম। অ'ভিযানে তার কার্যালয়ে তল্লা'শি করে অবৈধভাবে উপার্জিত নগদ এক কোটি ৮০ লাখ, ২০০ কোটি টাকার এফডিআর, বিদেশি ডলার, ম'দ ও অ'স্ত্র উ'দ্ধার করেন তিনি।

২০১৮ এবং ২০১৯ সালে হাসপাতালে অ'ভিযান চালান সারোয়ার আলম। মেয়াদোত্তীর্ণ রিএজেন্ট (রাসায়নিক উপাদান) ব্যবহার ও অনুমোদনহীন ওষুধ 'বিক্রির অ'ভিযোগে বেশ কয়েকটি বড় বড় হাসপাতালে অ'ভিযান চালান তিনি। এর মধ্যে পান্থপথের বিআরবি হাসপাতাল, শমর'িতা হাসপাতাল ও বাংলাদেশ স্পাইন হাসপাতালকে ১৮ লাখ টাকা জরিমানা করেন।

নানা অনিয়মের অ'ভিযোগে চট্টগ্রামের ম্যাক্স হাসপাতালকেও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেন তিনি।
সারোয়ার আলমের এমন সাফল্যের জন্য ২০১৯ সালের ১২ মে তার মাকে ‘গর্বিণী মা’ পদক পরিয়ে দেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।