বিয়েকে স্মৃতিময় করে রাখতে লেকপাড়ে গাছের নিচে গায়ে হলুদ

গায়ে হলুদ, বাঙালী বিয়ের সবচেয়ে বর্ণিল ও বর্ণাঢ্য পর্ব। সাধারণত এই অনুষ্ঠান পারিবারিকভাবে হয়ে থাকে। নিজ ক্যাম্পাসে এই আয়োজন সত্যিই বড় প্রা'প্ত ির। এমনটাই ঘটেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মাহাথির ও মারিয়াম ছন্দার জীবনে। ব্যতিক্রমী এই আয়োজন উপহার দিয়েছে তাদের বন্ধু-বান্ধবী ও প্রিয়জনরা।

শুক্রবার (৫ ফেব্রুয়ারি) পুরানত কলা ভবনের লেক পাড়ে হি’জল গাছের নিচে বাঁশের ডালা, কুলা, চালুন, মাটির ঘড়া ও ম’টকা দিয়ে তৈরি হয়েছে গায়ে হলুদের আসন। হলদে শাড়ি ও পাঞ্জাবিতে একদল তরুণ-তরুণীর ভীড়। গ্রাম বাংলার চিরায়ত হলুদের মতোই হলুদ, মেহেদি, মি'ষ্টান্ন, ফলমূলসহ আয়োজনের কমতি ছিল না সেখানে।

‘আমি প্রীতিলতা হলের আবাসিক ছাত্রী। আমার খুব ইচ্ছে ছিলো ক্যাম্পাসে এমন একটি আয়োজন হোক। বন্ধুরা সেই আশা পূরণ করলো। সবাই এতো দুর থেকে আমার এই আয়োজন উপলক্ষ্যে এসেছে আমি সবার প্রতি কৃত’জ্ঞ।

ক্যাম্পাস খোলা থাকলে সবাইকে একসাথে পাওয়া যেত। কাছের মানুষগু'লোর সাথে গায়ে হলুদ আয়োজন, এটা সত্যিই আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া।’ এমন অনু’ভূ'ত ির কথাই জানালেন কনে সরকার ও রাজনীতি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মারিয়াম ছন্দা।

ছন্দা আরও জানান, হি’জল গাছের নিচটা আমার খুব প্রিয়। গায়ে হলুদের জন্য স্থানটি আমিই বা’ছাই করেছি। এই স্থানে ক্যাম্পাস জীবনে অনেক সময় কা’টিয়ে’ছি। তাই জীবনের গু'রুত্বপূর্ণ একটা অধ্যায়ের স্মৃ'’তিও এখানে থাকলো। বর ভূ’গোল ও পরিবেশ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মাহাথির মুহাম্ম'দ। ক্যাম্পাসেই নিজের জীবনের এক গু'রুত্বপূর্ণ অধ্যায় পার করছেন। অনুভূ'ত ি জানতে চাইলে বলেন, ‘ভর্তির পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল আন্দোলন সং’গ্রামে আমি ছিলাম সরব। তাই এই ক্যাম্পাসের সাথে আমার সম্প’র্ক গভীর। আজ সেখানেই জীবনের একটা বড় কাজ সম্পন্ন হলো। খুবই চমৎকার অনুভূ’তি আমার।’

উপস্থিত থাকা মাহাথিরের মা বলেন, ’আমার ছেলে, মেয়ে ও হবু বৌ মা তিনজনই এখানের শিক্ষার্থী। মেয়ের ও ছেলের বন্ধু-বান্ধবীরা সব এখানে। তিনজনের ঠিকানা যেহেতু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় তাই এখানে আয়োজন করা হয়েছে। এটা আমার কাছেও ভালো লেগেছে। তিনি আরও জানান, ‘এই নিয়ে ক্যাম্পাসে গতকাল থেকেই প্রস্তুতি চলছে, এই আয়োজন বাড়ি থেকে ভিন্ন হলেও এর হৃদ্যতা আমাকে মু’গ্ধ করছে। আমার চাওয়া একটাই দুইজন সুখী হোক ও পড়াশুনা করে নিজেদের যোগ্যতা বৃ’দ্ধি করে ভবি'ষ্যতে আরও বড় হোক।’

কনের ভাতিজা রাফিন। সে অ'ষ্টম শ্রেণীতে পড়ে। ছোট থেকে ঘরোয়া পরিবেশে গায়ে হলুদ দেখে আসছে সে। ফু’পির ভিন্নরকম গায়ে হলুদে বিমোহিত সে। আগেও এই ক্যাম্পাসে এসেছে। কিন্তু আজকের আয়োজন তার কাছে সম্পূর্ণ নতুন। মু’ক্ত প্রকৃ’তিতে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান মন ছুয়েছে তার। ভিন্নরকম এই আয়োজকদের একজন আসাদুল্লাহ আল গা'লিব। সে জানায়, ‘ক্যাম্পসে গায়ে হলুদ আগেও দেখেছি।

কিন্তু বন্ধ ক্যাম্পাসে এই আয়োজন আনন্দের মাত্রাকে কয়েকগু'ণ বাড়িয়ে দিয়েছে। জাবি নিজেই একটা পরিবার। তাই এটা পরিবারের সদস্যদেরই উৎসব। স্মৃ'তিবিজড়িত এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান আামা'দের মধ্যকার সৌহার্দের ও ভালোবসার প্রতিচ্ছবি। ক্যাম্পাসে গায়ে হলুদের পর ১১ তারিখ উভয়ের পরিবারিকভাবেও গায়ে হলুদ হবে। ১২ তারিখ বিয়ের অনুষ্ঠান হবে মিরপুর কনের বাড়ি। আর বৌ ভাত হবে মাহাথিরের বাড়ি লক্ষ্মীপুর।