ইউটিউব দেখে হলুদ তরমুজ চাষ, স্কুলছাত্রের বাজিমাত

মানিকগঞ্জে ইউটিউব দেখে হলুদ তরমুজ চাষ করে বাজিমাত করেছে স্কুলছাত্র মো. মিলন হোসেন। তার ক্ষেতে তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। যা এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

মানিকগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুলের দশম শ্রেশির কম্পিউটার ইনফরমেশন অ্যান্ড টেকনোলজির ছাত্র মিলন সদর উপজে’লার নবগ্রাম ইউনিয়নের চর বারইল গ্রামের বাসি'ন্দা। ইউটিউব ও ইন্টারনেট সম্পর্কে তার অনেক আগ্রহ। এ কারণে সুযোগ পেলেই অজানা এসব বিষয় নিয়ে ঘাটাঘাটি করেন তিনি। এবার সেই ঘাটাঘাটি করতে গিয়েই করে ফেললেন বাজিমাত।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মিলনের বাগানে সবুজ ডগার সঙ্গে থোকায় থোকায় ঝুলছে হলুদ রঙের তরমুজ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও সঠিক পরিচর্যায় ফলনও হয়েছে বেশ। সবুজ ক্ষেতে হলুদ তরমুজ দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। স'প্ত াহ দুয়েক পরই এসব তরমুজ বাজারে নেয়া হবে। এ এলাকায় হলুদ রঙের তরমুজ চাষ এবারই প্রথম। এ কারণে আগ্রহ নিয়ে মিলনের তরমুজ ক্ষেত দেখতে ছুটে আসছে উৎসুক জনতা।

এ বিষয়ে স্কুলছাত্র মিলন বলেন, ইউটিউবে হলুদ তরমুজ সম্পর্কে জানতে পারি। এরপর ঢাকার সিদ্দিক বাজারের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অনলাইনে তিন হাজার টাকায় ২০ গ্রাম বীজের অর্ডার দেই। ৩-৪ দিন পর তরমুজের বীজ সংগ্রহ করি।

পরে পরীক্ষামূলকভাবে নিজেদের ১৭ শতাংশ জমিতে বীজ বপন করি। জমি চাষ, বীজ, সার, কীটনাশ'ক ও মাচাইলসহ সব মিলিয়ে প্রায় ১৪ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আবাহওয়া অনুকূলে থাকায় কমপক্ষে ১৫শ’ তরমুজ উৎপাদন হবে।

তিনি আরো বলেন, এবার পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করেছি। ভালো মুনাফা পেলে আগামী মৌসুমে ব্যাপকভাবে তরমুজের আবাদ করার পরিকল্পনা রয়েছে। আশা করি এবারই বেশ লাভ পাব। এরই মধ্যে অনেকেই যোগাযোগ করছেন। ধারণা করছি, শিগগিরই চর বারইল এলাকায় হলুদ তরমুজের আবাদ বাড়বে।

মিলনের বড় ভাই মনির হোসেন বলেন, মানিকগঞ্জে বিভিন্ন জাতের সবুজ ও কালো রঙের তরমুজ আছে। কিন্তু হলুদ রঙের তরমুজ নেই। আমার ছোট ভাই হলুদ তরমুজ চাষ করে চমক দেখিয়েছে। প্রথমে আমলেই নেয়নি, এখন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে তার ক্ষেত দেখে যাচ্ছে। অনেকেই পরামর'্শ করছে।

মানিকগঞ্জ সদর উপজে’লা কৃষি কর্মকর্তা আফতাব উদ্দিন মাহমুদ বলেন, চর বারইল এলাকায় হলুদ তরমুজ চাষের কথা লোকমুখে শুনেছি। সুযোগ পেয়েই ওই স্কুলছাত্রের তরমুজ ক্ষেত পরিদর্শন করব। যেকোনো প্রয়োজনে তাকে পরামর'্শ ও সহযোগিতা দেয়া হবে।