সমস্যায় আসতে হবে না থানায়, পুলিশ যাবে ভুক্তভোগীর বাড়ি

গাজীপুরের কালীগঞ্জ থানাধীন এলাকার যেকোনো সমস্যার কথা এখন থেকে খুব সহজেই পুলিশকে অবগত করা যাবে। কেউ সমস্যায় পড়লে থানায় যেতে হবে না বরং পুলিশ চলে যাবে ভুক্তভোগীর বাড়িতে। সে লক্ষ্যে স্থানীয় বিট পুলিশ কর্মকর্তা ও থানার ডিউটি অফিসারের নম্বর সংবলিত স্টিকার প্রতিটি বাড়ি বাড়ি সাঁটানো হচ্ছে।

এ পর্যন্ত উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভায় ১০ হাজার স্টিকার সাঁটানো হয়েছে। কোনো ধরনের সমস্যা হলে ভুক্তভোগী ও জনসাধারণ ওই স্টিকারে থাকা নম্বরে ফোন করলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাবে জনতার পুলিশ।

খোঁজ জানা গেছে, একটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত কালীগঞ্জ উপজেলা। উপজেলায় রয়েছে থানা পুলিশের ১০টি বিট। সাতটি ইউনিয়নে একটি করে সাতটি বিট ও পৌরসভার তিনটি ওয়ার্ড নিয়ে একটি করে তিনটি বিট। বর্তমানে সব মিলিয়ে উপজেলায় ১০টি বিটে বিট পুলিশিং কার্যক্রম চালু রয়েছে।

পুলিশের সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগের বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মিজানুল হক বলেন, ‘চুরি, ডাকাতি, রাহাজানিসহ বিভিন্ন সমস্যায় পড়ে পুলিশিং সেবা পাওয়ার আশায় ভুক্তভোগীরা থানায় আসেন। এখন আর জনগণকে সমস্যায় পড়ে থানায় আসতে হবে না। থানা পুলিশ চলে যাবে ভুক্তভোগীদের বাড়িতে বা ঘটনাস্থলে। গাজীপুর জেলা পুলিশের সহায়তায় এরই মধ্যে বাড়ি বাড়ি স্টিকার লাগানোর কাজ শেষ করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদের অন্যতম উদ্যোগ হলো প্রতিটি বাড়ি পুলিশিং আওতায় আনা। পুলিশের সঙ্গে প্রতিটি বাড়ির একটি অন্যতম সংযোগ ও সেতুবন্ধন স্থাপন করা। বিট পুলিশিং স্টিকারে বিট অফিসার ও থানার ডিউটি অফিসারের মোবাইল নম্বর দেয়া আছে। ডিউটি অফিসারের মোবাইল নম্বর ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে। সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূলে সমাজে যেখানে যখন যেই ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়, সেটি যেন সহজে জনগণ বা ভুক্তভোগী পুলিশকে অবগত করতে পারেন। জনগণ থানায় আসার আগেই যেন পুলিশ বাড়িতে গিয়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।’

ওসি একেএম মিজানুল হক বলেন, ‘গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার এসএম শফিউল্লাহর নেতৃত্বে কালীগঞ্জ উপজেলার ১০টি বিটে প্রথম দফায় ১০ হাজার বিট পুলিশিং স্টিকার বাড়ি বাড়ি লাগানো হয়েছে। কোনো বাড়ি যেন বিট পুলিশিং স্টিকার লাগানোর বাইরে না থাকে সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে পুলিশ।’

তিনি বলেন, ‘জাতীয় সেবা ৯৯৯-এর সম্পর্কে ধারণা, পুলিশের সেবার মান বৃদ্ধি, মাদক, সাইবার ক্রাইম, বাল্যবিয়ে, ইভটিজিং, কিশোর অপরাধ, সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণ ও পুলিশিং সেবা নিয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ আরও একটি ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ নিয়েছে।

প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের খুতবার আগে স্থানীয় মসজিদে মসজিদে মুসল্লিদের উদ্দেশে ২২টি বিষয়ের ওপর আলোকপাত বা সচেতনতামূলক বক্তব্য দেয়া হচ্ছে। ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) হাবিবুর রহমানের নির্দেশে এ উদ্যোগ নেয়া হয়।’