শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিতি সন্তোষজনক নয়

দীর্ঘ দেড় বছর পরে গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু হয়েছে।

করোনা ভাইরাসের কারণে দীর্ঘ ১৮ মাস বন্ধ থাকার পর শিক্ষাঙ্গনে প্রাণ ফিরলেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি সন্তোষজনক নয়। বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

রাজধানীর দনিয়ায় অগ্রদূত বিদ্যানিকেতন হাইস্কুলে খোজ নিয়ে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি একেবারেই সন্তোষজনক নয়। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম হওয়ায় এই প্রতিষ্ঠানে শিফটিং পদ্ধতিতে ক্লাসের প্রয়োজন হয় না।

প্রতিষ্ঠানের তৃতীয়তলায় একটি শ্রেণিকক্ষে গিয়ে দেখা যায়, এক শিক্ষক পাঠদানে ব্যস্ত। শিক্ষার্থীরা সবাই দূরত্ব বজায় রেখে বসেছে। সবার মুখে মাস্ক। অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধির চিত্রও ভালো দেখা গেল। কিন্তু শিক্ষার্থীর উপস্থিতির যে তথ্য জানা গেল, সেটাকে ভালো বলা যায় না।

তবে অন্যান্য ক্লাসের তুলনায় অষ্টম এবং দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের তুলনামূলক ভাবে উপস্থিতির সংখ্যা একটু বেশি। বিদ্যালয়টিতে আজ ছিল অষ্টম শ্রেণির ক্লাস। এই ক্লাসে প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১২ সেপ্টম্বর থেকে আজ পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠানে দশম শ্রেণিতে উপস্থিত ছিলেন ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী। এছাড়া নবম শ্রেণিতে এখনো ক্লাস হয়নি। সপ্তম শ্রেণিতে ৫০ শতাংশ এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম কেন?

জানতে চাইলে সহকারী প্রধান শিক্ষক সনিয়া নাহিদ জানান, দীর্ঘদিন পর খুলছে, অনেক অভিভাবকদের মনে হয়তো এখনো আতঙ্ক রয়ে গেছে। সেটারই প্রভাব শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে চোখে পড়ছে।

তিনি জানান, আজ সকালেও অনেক অভিভাবকদের ফোন দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে। দীর্ঘ দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিলো, দু-এক মাস পরে নতুন বছর আসছে তাই এখন ছাত্র-ছাত্রীকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠিয়ে বেতন-পরীক্ষার ফি পরিশোধের বিষয়টি নিয়েও অনেক অভিভাবক চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। তিনি আরও বলেন, সব অভিভাবকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হচ্ছে। মনে হচ্ছে, কিছু অভিভাবক এখনো দ্বিধাগ্রস্ত। আবারও অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। তিনি ধারণা করছেন, এরপর থেকে উপস্থিতি বাড়বে।