ওড়না ডেলিভারি, ডাক্তারকে খেজুর গিফট দিতে বেড়িয়ে যা ঘটল

সারাদেশে চলছে কঠোর লকডাউন। লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে সরকারের নির্দেশনা উপেক্ষা করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জরুরি প্রয়োজনের অজুহাতে অ’প্রয়োজনীয় কাজে রাস্তায় বের হয়েছেন অনেকে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপ'ত্তা তল্লা'শি ও ভ্রাম্যমাণ আ'দালতের জেরার মুখে কেউ কেউ স্বীকার করেছেন অ’প্রাসঙ্গিক বি'ষয়াদির কথা।

বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে শাহবাগ মোড়ে র‌্যাব'ের ভ্রাম্যমাণ আ'দালত পরিচালনার সময় এমনই কিছু অ’প্রাসঙ্গিক বি'ষয় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলা'শ কুমার বসুর নজরে আসে।

ওড়না ডেলিভারি দিতে একটি অনলাইন পেজ- এর মালিক আওলাদ হোসেন যাচ্ছিলেন নিউমার্কেট এলাকায়। শাহবাগে ভ্রম্যমাণ আ'দালতের জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য উঠে আসে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানতে চাইলে আওলাদ হোসেন বলেন, ‘ওড়না ডেলিভারি দেওয়ার জন্য নিউমার্কেট এলাকায় যাচ্ছি।

এটি একটি জরুরি কাজ। জরুরি ডেলিভারি। তাই বের হয়েছি।’ বি'ষয়টি ভ্রম্যমাণ আ'দালতের কাছে জরুরি না হওয়ায় এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয় তাকে।

শাহবাগে র‌্যাব'ের জেরার মুখে এক মোটরসাইকেল আরোহী ভ্রাম্যমাণ আ'দালত চলাকালীন ফার্মাসিটিক্যালস কোম্পানির একটি গাড়িকে থামানোর ইশারা দেন র‌্যাব' সদস্যরা। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ডাক্তারদের জন্য গিফট হিসেবে খেজুর নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। জরুরি ওষুধ সেবায় নিয়োজিত স্টিকার লাগিয়ে চলছিল ফার্মাসিটিক্যালস কোম্পানির এই গাড়িটি। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে বি'ষয়টি জরুরি কিংবা প্রয়োজনীয় কাজ বলে মনে না হওয়ায় হয় গাড়িচালককে জরিমানা করা হয়।

রিকশায় করে মুখে গামছা লাগিয়ে ভ্রাম্যমাণ আ'দালতের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন ইউসুফ আলী। র‌্যাব' সদস্যরা রিকশা থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই দেখা যায়, পকে'টে মাস্ক থাকলেও মুখে গামছা পেঁচিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। জিজ্ঞাসাবাদে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ওই রিকশাআরোহী বলেন, ‘মাস্ক পড়লে গরম লাগে। তাই গামছা পেঁচিয়ে যাচ্ছিলাম।’ এই বক্তব্য যৌ'ক্তিক না হওয়ায় জরিমানা গু'নতে হয় তাকেও।

এ বি'ষয়ে র‌্যাব'ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলা'শ কুমার বসু বলেন, ‘জনসাধারণ আগের তুলনায় বেশি মাস্ক পরে বাইরে বের হচ্ছেন। তবে অনেকেই প্রয়োজনীয় কারণ ছাড়া রাস্তায় বের হয়েছেন। যারা অ’প্রয়োজনে বের হয়েছেন এবং ভ্রাম্যমাণ আ'দালতের দৃ'ষ্টিগোচর হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থাসহ জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া জনগণকে সচেতন করতে বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে।’ করোনার সংক্রমণ ঝুঁকি এড়াতে মাস্ক ব্যবহার এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনও 'বিকল্প নেই বলেও জানান তিনি।