বিদ্যুৎ সংযোগ না পেলেও আবেদনের ৯ বছরে এসেছে লক্ষাধিক টাকার বিল

সেচ পাম্প না থাকলেও বিল হয়, পরিশোধ করলেও একই বিল আবার হয়। এরপর সংশোধনের নামে বিদ্যুৎ অফিসে যাতায়াতে জোড়ায় জোড়ায় জুতা ক্ষয় হয়। তারপরও শেষ হয় না ভোগান্তি।

২০১১ সালের ৩০ নভেম্বর সেচপাম্প চেয়ে গাইবান্ধা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে আবেদন করেন পলা'শবাড়ির মর'াদাতেয়া গ্রামের স্কুলশিক্ষক শামছুল আলম। সংযোগ না পেয়ে পরের বছর ৮ ফেব্রুয়ারি সংযোগ স্থগিতের আবেদন করলেও ২০২০ সালে হঠাৎ লক্ষাধিক টাকার বিল পান তিনি। অ'ভিযোগ নিয়ে প্রথমে হিসাব বিভাগ, তারপর উপসহকারী প্রকৌশলী ফুয়াদ হাসানের দফতরে যাওয়ার পর তিনি আবারও আবেদনের পরামর'্শ দিয়ে ফিরিয়ে দেন ভুক্তভোগীকে।

ভুক্তভোগী শামছুল আলম ক্ষু'ব্ধ হয়ে বলেন, বিদ্যুৎ অফিস, না জালিম অফিস। বিদ্যুতের লাইন নেই, পাম্প নেই অথচ আমার নামে এক থেকে দেড় লাখ টাকার বিল ওঠছে। আমি এই বিল কোথা থেকে দেব।

বকেয়ার দায়ে মাম'লা হলে সদরের আবদুর র'শিদ পাওনা শোধ করে ২০১৮ সালে অব্যা'হতি পান। স্থায়ীভাবে তার সেচ পাম্প বন্ধ থাকলেও ২০২০ সালে আবারও বিল বকেয়ার মাম'লায় পরোয়ানা নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। অন্যদিকে, তিন বছরে ১১ হাজার ৩৩০ ইউনিটের বিপরীতে মনগড়া ৯৪ হাজার টাকা বিল করার অ'ভিযোগও আছে।

ভুক্তভোগী আবদুর র'শিদ বলেন, এটার জন্য আমার নামে ওয়ারেন্ট হয়, পুনরায় আমার নামে বিল যদি আসে, এইটা কি দেশের নিয়ম। এইটা কি দেশের আইন।

অ’পর ভুক্তভোগী আজাদুল ইসলাম বলেন, তারা বিল করেছে ৯৮ হাজার। এসব হাবিজাবি দেখায়। তারা বলেন, আ'দালতের ব্যাপার, আ'দালতে এখন সংশোধন করে নিয়ে আসেন।

অন্যদিকে সেচ পাম্প মালিক সমিতির অ'ভিযোগ, খোদ বিদ্যুৎ বিভাগের তদ'ন্তে ২০১৫-১৬ সালে ৫ কোটি ২৭ লাখ টাকার অতিরিক্ত বিল সংশোধনের নির্দেশ পুরোপুরি বাস্তবায়ন না করে গ্রাহকদের হয়রানি করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি, এমন অ'ভিযোগ সঠিক নয়।

গাইবান্ধা বিদ্যুৎ গ্রাহক ও সেচ পাম্প মালিক সমিতির উপদে'ষ্টা মাসুদুর রহমান বলেন, এখনও প্রায় ২০০-৩০০ সেচপাম্প আমর'া বসাতে পারিনি। তারা বসাতে দিচ্ছে না।

গাইবান্ধা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ইম'দাদুল হক বলেন, কিছু গ্রাহকের অ'ভিযোগ ছিল বিল সমন্বয় করে দিয়েছি। সমন্বয় করার পরও কিছু গ্রাহক বিল দেয়নি।

২০১৫-১৬ সালে আমন মৌসুমে কয়েক দফা বন্যার কারণে সেচ পাম্প বন্ধ থাকলেও ভুয়া ও অতিরিক্ত ৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা বিলের জন্য তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলীসহ ১০ জনকে অ'ভিযুক্ত করে তদ'ন্ত কমিটি।