৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে মিলন পেলেন মাত্র ১৫ হাজার!

রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) মিঠাপুকুর উপজেলার শুকুরেরহাট শাখা বর্গাচাষি হিসেবে মিলন মণ্ডলের নামে ৫০ হাজার টাকা ঋণ বরাদ্দ দেয় । সেই টাকা উত্তোলন করাও হয়েছে। কিন্তু মিলন মণ্ডল পেয়েছেন মাত্র ১৫ হাজার টাকা।

বাকি টাকা ব্যাংকের দালালরা ভাগ করে নিয়েছেন। এভাবেই ঋণ বিতরণ চলছে রাকাবের ওই শাখাটিতে। ভুক্তভোগী মিলন মণ্ডল উপজেলার ময়েনপুর ইউনিয়নের জগদীশপুর গ্রামের আবদুল কাদের মণ্ডলের ছেলে।

মিলন মণ্ডল বলেন, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) শুকুরেরহাট শাখায় বর্গাচাষি হিসেবে ৫০ হাজার টাকার আবেদন করেছি। আমার ঋণ উত্তোলন করার পর স্থানীয় দালাল আজিজুর ইসলাম, মোস্তাফিজার রহমান, লাবলু মিয়া ও আহম্মদ মেম্বার আমার টাকাগুলো দেননি। মাত্র ১৫ হাজার টাকা দিয়ে বাকি টাকা আত্মসাৎ করেছেন তারা।

জগদীশপুর গ্রামের আবুল হাশেম মণ্ডল বলেন, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক শুকুরেরহাট শাখায় রয়েছে একটি দালাল সিন্ডিকেট চক্র। তারা সাধারণ মানুষকে ঋণ প্রক্রিয়া করে দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করছে। বিষয়টি জেনেও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। আবদুল খালেক মিয়া বলেন, মিলন মণ্ডলের ঋণের টাকা আত্মসাৎ করেছে দালাল চক্রটি। ঋণের পুরো টাকা তুলে মিলনকে দিয়েছে মাত্র ১৫ হাজার টাকা। দালাল সিন্ডিকেটের সদস্যরা বাকিটা আত্মসাৎ করেছে।

অভিযুক্ত দালাল চক্রের সদস্য আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘মিলন মণ্ডলের সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল ঋণের অর্ধেক টাকা দিতে হবে। আমরা তাঁকে তাঁর চাহিদামতো টাকা দিয়েছি। সে এখন পুরো টাকাটা চাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘টাকাগুলোর মধ্যে আহম্মদ মেম্বার নিয়েছেন ১২ হাজার, খরচ বাবদ আমি নিয়েছি তিন হাজার, বাকি টাকা ব্যাংকের লোকদের দিতে হয়েছে। আমার করার কিছু নাই।’

অভিযোগের বিষয়ে আহম্মদ মেম্বার বলেন, ‘মিলন মণ্ডলের ঋণের বিষয়ে আমি ব্যাংকে সুপারিশ করেছি। ঋণ নেওয়ার আগে মিলন মণ্ডল আমার কাছে ১২ হাজার টাকা ধার নিয়েছিল, আমি ওই ধারের টাকা নিয়েছি।’

মিলন মণ্ডলের বাবা আবদুল কাদের মণ্ডল আক্ষেপ করে বলেন, ‘লোনের (ঋণের) ট্যাকা দিয়া একটা রিকশা কিনতে চাইছিল মোর ছইলটা। কিন্তুক সেইটা আর হইল না। ৫০ হাজার টাকার মধ্যে মিলন পাইছে মাত্র ১৫ হাজার। দালালরা সউগ ট্যাকা ভাগ করি নিচে। কিন্তু ব্যাংক লোনের ট্যাকাগুলাতো হামাকেই পরিশোধ করবার নাগবে। এখন হামরা কার কাছে বিচার দেমো!’

রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক শুকুরেরহাট শাখা ব্যবস্থাপক খন্দকার লিমন হাবিব বলেন, ‘এই শাখায় দালালের কোনো স্থান নেই। আমরা মিলন মণ্ডলকে ঋণের ৫০ হাজার টাকা বুঝিয়ে দিয়েছি। ব্যাংকের বাইরে তাঁদের কিছু হয়ে থাকলে সেটার দায়ভার ব্যাংক বহন করবে না।’