বন্যাকবলিত ১১ জেলায় ৯০০ মেট্রিক টন চাল ৩ কোটি ৩৫ লাখ নগদ টাকা ও খাবার বিতরণ করা হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আশা করা হচ্ছে, দুই-এক দিনের মধ্যে পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হবে।

বন্যার পানি নেমে গেলে বাড়িঘর মেরামত ও কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচি হাতে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজ নির্দিষ্ট করে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আজ ২২ জুন বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

বন্যাকবলিত এলাকার জনসাধারণকে আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার আপনাদের পাশে আছে। মানুষের ভোগান্তি লাঘবে আমরা সর্বোচ্চ উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।’ বিভিন্ন বাহিনীর শতাধিক বোট, হেলিকপ্টার এবং অন্যান্য যানবাহন উদ্ধারকাজে নিয়োজিত রয়েছে বলে জানান সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ৫০০ সদস্য সাতটি হেলিকপ্টার ও পরিবহন বিমানসহ সিলেট এলাকায় উদ্ধারকার্য পরিচালনা ও ত্রাণ বিতরণের জন্য সার্বক্ষণিক নিয়োজিত আছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগের নেতা-কর্মীদের দুর্গত মানুষদের সহায়তা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা দুর্গত এলাকায় ত্রাণকাজ চালাচ্ছে। আমি গতকাল নিজে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলার বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’

এদিকে বন্যাকবলিত সিলেট অঞ্চলে ১ হাজার ২৮৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ৩০০ মেডিকেল টিম কাজ করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার পর্যন্ত বন্যাকবলিত ১১টি জেলায় ৯০০ মেট্রিক টন চাল এবং ৩ কোটি ৩৫ লাখ নগদ টাকা এবং ৫৫ হাজার শুকনো ও অন্যান্য খাবারের প্যাকেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই মুহূর্তে যেটা সবচেয়ে বেশি দরকার, তা হলো শুকনো খাবার এবং বিশুদ্ধ পানি। আমরা তার ব্যবস্থাই করছি। আমাদের দলের নেতা-কর্মীরাও সাধ্যমতো দুর্গত মানুষের ঘরে শুকনো ও রান্না করা খাবার পৌঁছে দিচ্ছে।’