সেই আমেনার ভাতা’র টাকা উদ্ধার করলেন ইউএনও

‘আমেনার হাতে কার্ড, ভাতা খায় অন্য কেউ!’ শিরোনামে গত বুধবার দৈনিক কালের কণ্ঠ অনলাইনে সংবাদ প্রকাশের পর সেই আমেনার ভাতার টাকা উদ্ধার করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।

ভাতা’র ৩ হাজার টাকা উদ্ধার করে আমেনা আক্তারের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এর সাথে সংবাদে উল্লিখিত রহিমা খাতুন নামে আরেক ভাতাভোগীর টাকা অজ্ঞাত নাম্বারে গেলেও তা ফেরত পেয়েছেন বলে শনিবার জানিয়েছেন মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ বলেন, কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও আমার নজরে আসে।

ডিসি (জেলা প্রশাসক) স্যারের নির্দেশে মদন থানার পুলিশের সহযোগিতায় ভাতাভোগী আমেনার ৩ হাজার টাকা উদ্ধার করে তার হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এর সাথে সংবাদে উল্লিখিত আরেক ভাতাভোগী রহিমা খাতুনের ৩ হাজার টাকা ফেরত পেয়েছেন বলে তার ছেলে আজিজুল ইসলাম জানিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এমন সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর বিষয়টি সকলের নজরে এসেছে। ভাতার টাকা অন্যের মোবাইল নম্বরে চলে গেছে এমন আরো ১২০ জনের তালিকা পেয়েছি। এরই মধ্যে বেশ কয়েক জনের টাকা ফেরত পেয়েছে। ঈদের আগে যে সকল ভাতাভোগীদের টাকা ফেরত পাবে না তাদেরকে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হবে। সেই সাথে ভাতার টাকা উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

ঘরে বসে ভাতা তোলার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সারা দেশে শুরু হয়েছে ভাতাভোগীদের জন্য ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশান সিস্টেম (এমআইএস)। ভাতাভোগীদের মোবাইল নম্বরে চুক্তি অনুযায়ী নগদ কম্পানি এন্ট্রিকৃত মোবাইল নম্বরে ভাতাভোগীদের টাকা পাঠায়। কিন্তু নগদ কম্পানির এজেন্টের লোকজনের উদাসীনতায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ওয়েবসাইটে ভাতাভোগীদের মোবাইল নম্বর ভুল এন্ট্রি দেন।

ফলে উপজেলায় বিধবা, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীরা পড়েছেন ভোগান্তিতে। তাদের দেয়া নম্বরে টাকা না গিয়ে চলে যাচ্ছে অজ্ঞাত নাম্বারে। আর ওই টাকা অনায়াসেই উত্তোলন করে নিচ্ছে একটি চক্র।

মদন উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় সরকারি ভাতাভোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ৯০৩ জন। তার মধ্যে বিধবা ৩ হাজার ২৮২ জন, প্রতিবন্ধী ১ হাজার ৭২৭ ও বয়স্ক ভাতাভোগী ৫ হাজার ৮৯৪ জন। তাদের প্রত্যককে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের আওতায় আনা হয়েছে। তবে সমাজ সেবা এখন পর্যন্ত ১২০ জন ভাতাভোগীর টাকা নিয়ে সমস্যা রয়েছে।