খাদ্যসামগ্রী নিয়ে দুস্থদের বাড়িতে চিকিৎসক!

দুই বছর আগে ডাক্তার সওগাত এহসান সাম্য পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পাশাপাশি নানাবিধ সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন। বিনা মূল্যে দুস্থ ও অসহায় রোগীদের চিকিৎসা করার পাশাপাশি নগদ অর্থ দিয়ে সহযোগিতাও করেন তিনি।

সর্বশেষ তিনি শনিবার ও রবিবার করোনায় কর্মহীন হয়ে পড়া উপজেলার দরিদ্র ১২৪টি পরিবারে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেন। এর আগেও তিনি করোনাকালীন দুর্যোগে তিনি খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন। এ কারণে এলাকায় তিনি মানবিক ডাক্তার বলেই পরিচিত।

জানা যায়, ডাক্তার সওগাত এহসান পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার কাশিপুর গ্রামের অধ্যাপক রঞ্জু আহমেদের বড় ছেলে। বর্তমানে তিনি পরিবারসহ ভাঙ্গুড়া বাজারে বসবাস করেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন।

ছাত্রজীবনে বেশির ভাগ সময় ব্যয় করেন রংপুর ক্যাডেট কলেজে। এরপর শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। পরে বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে দুই বছর আগে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন।

পারিবারিকভাবে ধনাঢ্য ডাক্তার সওগাত ভাঙ্গুড়ায় যোগদানের পর থেকেই নানাভাবে দরিদ্র মানুষদের সেবা করছেন। এলাকার দরিদ্র রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি নিজ খরচে রাজশাহী ও ঢাকা পাঠানোরসহ চিকিৎসা ব্যয়ভার বহন করেন।

পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সময়ে দরিদ্র মানুষদের খাদ্যসামগ্রী, নগদ অর্থ ও পোশাক বিতরণ করেন। এর ধারাবাহিকতায় করোনার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া ১২৪টি দরিদ্র পরিবারে দুই দিন ধরে তিনি খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন। খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ৭ কেজি চাল, ২ কেজি আলু, ১ কেজি ডাল ও আধা লিটার তেল।

ডাক্তার সওগাত এহসানের বাবা অবসরপ্রাপ্ত কলেজশিক্ষক রঞ্জু আহমেদ বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমার ছেলের মানুষের প্রতি ভালোবাসাটা অনেক বেশি। তাই ছাত্রজীবনেও সে মেধাবৃত্তির টাকা দরিদ্র মানুষের কল্যাণে ব্যয় করত। এতে আমরা পরিবারের সদস্যরা গর্ববোধ করতাম। এখন নিজে স্বাবলম্বী হয়ে গরিব-দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে। আমরা তাকে সব সময়ই এমন মানবিক কাজে উৎসাহ দিই।’

ডাক্তার সওগাত এহসান বলেন, করোনাকালীন দুঃসময়ে হতদরিদ্র মানুষের কাছে আমার সামর্থ্য অনুযায়ী খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। ভবিষ্যতে যেন মানুষের পাশে আরো বৃহৎ পরিসরে দাঁড়াতে পারি, সৃষ্টিকর্তার কাছে এই কামনা করি।