গরুর গোশতের দোকানে ভিড়, মুরগির দোকান ফাঁকা

ঠাকুরগাঁও সদরের রুহিয়া বাজারে ঢোকার আগে পোষ্ট অফিসে মমতাজুল ইসলাম মন্তার গোশতের দোকান। সপ্তাহের প্রায় প্রতিদিনই দেখা হলে জানতে চাই- ব্যবসা কেমন চলছে? উত্তর প্রতিদিন একই রকম, ভালো নাই ভাতিজা। সপ্তাহের শুরুতেও এ ব্যবসায়ী জানিয়েছিলেন, পুরা বাজার মিলে টেনেটুনে দুই থেকে তিনটা গরু শেষ করা যায়।

আজ বুধবার তার দোকানে চিত্র ভিন্ন। সকাল সাড়ে ১০টায় দোকানে গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতার ভিড়, চারজন কর্মচারী মিলে দোকান সামলাচ্ছে। গোশত মাপতে মাপতে কথা হয় তার সাথে। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আজ দুইটা জবাই করেছি। আমি ৫৫০ টাকা কেজিই রাখছি। তবে কোথাও ৬০০ টাকাও বেঁচে।’

তিনি বলেন, আজকে তো কোরবানির ঈদ। দরিদ্র যারা গরু কোরবানি দিতে পারেন না মূলত তারাই আজকের কাস্টমার। গেলবার এই দিনে আমি ৪টা গরু বিক্রি করেছিলাম। সে হিসেবে ব্যবসা তেমন ভালো না। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে আসাকেই এর কারণ হিসেবে মনে করছেন এই ব্যবসায়ী।

বাজারের আরো সাতটি গোশতের দোকান রয়েছে। সেগুলোতে গোশতের দাম ৬০০ টাকা করে। পাকা সড়কের পাশে গোশতের দোকানে দেখা গেল বাশ দিয়ে ক্রেতা দাঁড়ানোর জায়গা করা
হয়েছে।

তবে একেবারেই উল্টো চিত্র মুরগির দোকানগুলোতে। বিশেষ করে পাকিস্তানি মুরগির ব্যবসায়ীরা ব্যবসায় লোকসানে পড়েছেন। তারা বলছেন, যা এ-র আগে হয়নি তাই হয়েছে।

কোরবানির আগে সব পণ্যের দামই বাড়ে, মুরগির বাজার এর বাইরে নয়। কিন্তু এবার কোরবানির ঈদ চলে যাচ্ছে, মুরগির দাম বৃদ্ধির পরিবর্তে আরো কমেছে। বাজারে পাকিস্তানি জাতের মুরগি পাইকারি ব্যবসায়ীরা কেজির দরে বিক্রি করলেও খুচরা পর্যায়ে তা পিস হিসেবেই বিক্রি করেন।

এতে ৬০০ থেকে ৭০০ গ্রামের মুরগি স্বাভাবিক সময়ে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হয়। কিন্তু আজ ঈদের দিন একই ওজনের পাকিস্তানি বিক্রি হয়েছে ১৩০ থেকে ১৬০ টাকা পিস। পাইকারি বাজারে বিক্রি হয় ১৬০ টাকা থেকে ১৮০ টাকা কেজি। অবস্থা কিছুটা ভালো ব্রয়লার মুরগির ব্যবসায়ীদের। গতকাল ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি। এই দাম একেবারেই খুচরা পর্যায়ে। পাইকারিতে ১০০ থেকে ১২০ টাকা।

খামারি পর্যায়ে তা আরো কম। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) হিসাবে গত বছর এই একই সময়ে ব্রয়রার মুরগির দাম ছিল ১৫০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা কেজি। সে হিসেবে দাম বেড়েছে ৫০ টাকার উপরে।

রুহিয়া বাজারের মুরগি ব্যবসায়ী শাহাজাহান আলী (বাঘা) বলেন, যে মুরগির জোড়া ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়, আজ বিক্রি করেছি। তা বাজার ভালো হলে সাড়ে ৪০০ টাকার উপরে হতো। কিন্তু কিছুই করার নাই, সময় খারাপ। বাজার মানুষে ভর্তি, কিন্তু মুরগি কেনার লোক নেই।