একই বাতি বিমানবন্দর কিনেছে ৪৬ লাখে, সিটি করপোরেশন কিনেছে ৩২ লাখ টাকায়

প্রতি ইউনিট অটো লিফটিং হাই মাস পোল (বিশেষ ধরনের বাতি সম্বলিত খুঁটি)-এর প্রতিটি ৪৫ লাখ ৭০ হাজার ২ টাকায় স্থাপন করেছে রাজশাহীর শাহ্ মখদুম বিমানবন্দর। সেই একই ধরনের প্রতিটি খুঁটি বসাতে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) খরচ করেছে ৩২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রতি ইউনিট পোলে রাসিকের চেয়ে ১৩ লাখ টাকা বেশি খরচ দেখিয়েছে শাহ মখদুম কর্তৃপক্ষ।

যেখানে রাসিকের এই ৩২ লাখ ৫০ হাজার টাকার দরপত্রকে বাজার দরের তুলনায় ‘অ'স্বাভা'বিক’ উল্লেখ করে কোটি টাকা দুর্নীতির অ'ভিযোগ উঠেছে, সেখানে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের ১৩ লাখ টাকা বেশি খরচের বি'ষয়টি পড়েছে আরও বড় প্রশ্নের মুখে।

রাসিকের ‘অ'স্বাভা'বিক’ দরপত্রের অ'ভিযোগটি আমলে নিয়ে ৫ সদস্যের একটি তদ'ন্ত কমিটি গঠন করেন করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান (লিটন)। সেই কমিটির দেয়া প্রতিবেদনে একই লাইট শাহ্ মখদুম বিমানবন্দর ও রাসিকের দরপত্রে ১৩ লাখ টাকার পার্থক্যের সত্যতা উঠে এসেছে।

‘হাই মাস্ট লাইট টেন্ডারসহ অন্যান্য কাজে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির অ'ভিযোগ’ সংক্রা'ন্ত প্রতিবেদনে একটি অ'ভিযোগ হলো, রাসিকের বিদ্যুৎ বিভাগ দেশের কোনো বিভাগ বা অফিসের রেট স্কেজিউল অনুসরণ অথবা কোনো কোম্পানির একক দর অথবা বাজার দর অনুসরণ না করে নিজের খেয়াল খুশিমতো এবং ঠিকাদারের চাহিদা অনুযায়ী কাজটির প্রাক্কলন করেছে। বর্তমান বাজার দর ও রেট স্কেজিউলের দরের চেয়ে অফিসিয়াল প্রাক্কলন পাহাড়সম বেশি।

এ বি'ষয়ে প্রতিবেদনে তদ'ন্ত কমিটি পর্যবেক্ষণে বলেছে, ‘আলোচ্য দরপত্র দলিল সংক্রা'ন্ত নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, পিডব্লিউডি (গণপূর্ত অধিদফতর), এলজিইডি (স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর) বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের রেট স্কেজিউল বইয়ে হাই মাস পোলের রেট নেই। এক্ষেত্রে রাজশাহী শাহ্ মখদুম এয়ারপোর্টে ২০ মিটার অটো লিফটিং হাই মাস পোল স্থাপনে দর পাওয়া যায় ৪৫ লাখ ৭০ হাজার ২ টাকা।

রাসিকে অটো লিফটিং হাই মাস পোল স্থাপনের প্রাক্কলিত দর ৩২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এই দুই দর তুলনা করলে দেখা যায়, রাসিকের দরটি অ’পেক্ষাকৃত অনেক কম। এছাড়া আরও দেখা যায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রাইস স্কেজিউলে আলোচ্য অটো লিফটিং হাই মাস পোলের স্থাপনসহ একক দর উদ্ধৃত করেছেন ৩১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা, যা সিটি করপোরেশনের দরের চেয়ে ৩ দশমিক ১৭ শতাংশ কম।’

গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর বি'ষয়টি তদ'ন্ত করার জন্য রাসিক মেয়রের নির্দেশে যে তদ'ন্ত কমিটি গঠন করা হয়, তাদের আহ্বায়ক রাসিক প্রধান প্রকৌশলী মো. খায়রুল বাশার। কমিটির সদস্যরা হলেন নেসকোর রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহমুদুল হাসান, রাজশাহীর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামর'ুজ্জামান, রুয়েটের তড়িৎকৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মামুনুর র'শিদ এবং রাসিকের বিএওর সদস্য সচিব মো. শফিকুল ইসলাম খান।