মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা পর দাদি হয়েছেন কবরী

ক’রো’না’র কাছে হার মেনে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন বাংলা চলচ্চিত্রের বিখ্যাত অ'ভিনেত্রী, নির্মাতা ও সাবেক এমপি সারাহ বেগম কবরী। গত ১৬ এপ্রিল রাজধানীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে মা’রা যান তিনি।

অ'ভিনেত্রীর মৃ'’ত্যু’র ঠিক কয়েক ঘণ্টা পর তার চতুর্থ ছেলে জয়নাল চিশতীর ঘরে জন্ম নেয় ফুটফুটে এক কন্যা সন্তান। কিন্তু তার মুখ দেখে যেতে পারেননি দাদি কবরী। নবজাতকের নাম রাখা হয়েছে আইলা। এটি জয়নাল চিশতীর দ্বিতীয় মেয়ে। আশা নামে তাদের আরেকটি মেয়ে রয়েছে।

বি'ষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন জয়নাল চিশতীর নিকটাত্মীয় সঙ্গীতশিল্পী নাহিদ কবির কাকলী।তিনি জানান, কবরীর পুত্রবধূ রোয়েনা আহসান এবং নবজাতক সুস্থ আছেন। কবরী প্রথমে বিয়ে করেন চিত্ত চৌধুরীকে। সেই সংসারে জন্ম নেয় দুই ছেলে-অঞ্জন চৌধুরী ও রিজওয়ান চৌধুরী। অঞ্জন চৌধুরী আমেরিকায় পড়াশোনা করে দীর্ঘ দিন ধরে সেখানেই স্থায়ী। রিজওয়ান চৌধুরীও যুক্তরা'ষ্ট্র থেকে লেখাপড়া শেষ করে বর্তমানে দুবাইয়ে চাকরি করছেন।

সম্প’র্ক বি’চ্ছে’দের পর ১৯৭৮ সালে তিনি বিয়ে করেন সফিউদ্দীন সরোয়ারকে। ফলে মিনা পাল থেকে কবরী চৌধুরী পরে কবরী সারোয়ার হন। পরবর্তীতে সারাহ বেগম কবরী নাম ধারণ করেন। ২০০৮ সালে তাদেরও বি’চ্ছে’দ হয়ে যায়। কবরীর এই সংসারে জন্ম নেয় তিন ছেলে-শাকের ওসমান চিশতী, জয়নাল চিশতী ও শান ওসমান চিশতী।

এদের মধ্যে শাকের ওসমান চিশতী সিনেমা নিয়ে পড়াশোনা করেছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। চতুর্থ ছেলে জয়নাল চিশতী কানাডার প্রবাসী। সবচেয়ে ছোট শান ওসমান চিশতী মানসিকভাবে প্র’তিব’ন্ধী।

প্রসঙ্গত, ১৯৬৪ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে নির্মাতা সুভাষ দত্তের ‘সুতরাং’ চলচ্চিত্রে অ'ভিনয় করে মিনা পাল থেকে কবরী হয়ে উঠেন তিনি।দীর্ঘ তিন দশকের ক্যারিয়ারে ‘নীল আকাশের নিচে’, ‘ময়নামতি’, ‘সুজন সখী’, ‘স্মৃ'তিটুকু থাক’, ‘সারেং বউ’, ‘তিতাস একটি নদীর নাম’সহ তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে অ'ভিনয় করেছেন তিনি।

অ'ভিনেত্রী কবরী একাত্তরে কলকাতায় গিয়ে বাংলাদেশের পক্ষে জনমত সৃ'ষ্টি করতে গু'রুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। সেখানে বিভিন্ন সভা-সমিতি ও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন; সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করেছেন। পরে দেশে ফিরে চলচ্চিত্রে পুরোপুরি মনোনি’বেশ করেছেন।

অ'ভিনয়ের পাশাপাশি ২০০৬ সালে ‘আয়না’ নামে একটি চলচ্চিত্রের পরিচালনার মধ্য দিয়ে নির্মাণে অ'ভিষেক ঘ’টে কবরীর। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে সরকারি অনুদানে ‘এই তুমি সেই তুমি’ না‌মে দ্বিতীয় চল‌চ্চিত্র নির্মাণ হাত দিয়েছেন তিনি। নিয়মিত লেখালেখিও করেন কবরী। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন কবরী।