তাহসানের ওপর রাগ নেই, রাগ যত আমার ওপর: মিথিলা

বিবাহ বিচ্ছেদে পুরুষের কোনো দোষ থাকে না, সব দোষ থাকে নারীর- সবাই এটাই ভাবেন বলে মন্তব্য করেছে অভিনেত্রী রাফিয়াথ রশিদ মিথিলা।

মিথিলা বলেন, ‘বাংলাদেশে তো মানুষের সবচেয়ে বেশি রাগ আমার ওপর। মানুষ প্রশ্ন করছেন মেয়ে হয়ে কেন আমি বিবাহ বিচ্ছেদ করলাম? মেয়েদের নাকি এসব করতে নেই। তাহসানের ওপর কিন্তু মানুষের রাগ নেই। রাগ যত আমার ওপর। আমি কেন বিয়ে করলাম?’

বিচ্ছেদের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কটাক্ষের শিকার হচ্ছেন মিথিলা। বিষয়টি সামনে এনে মিথিলা বলেন, ”আমাকে, সৃজিতকে নিয়ে বা আমার বিয়ে নিয়ে আজ নয়, ভারত আর বাংলাদেশ দুদিকেই নেটমাধ্যমে অজস্র কটাক্ষের শিকার হচ্ছি।

তবে সাম্প্রতিক কালে অরুচিকর কথা বেড়েছে। আমাকে ‘অসভ্য’ বলে মানুষ নিজে যে অসভ্যতার পরিচয় দিচ্ছে, সেটা আগামী পৃথিবীর জন্য একেবারেই স্বাস্থ্যকর নয়।” আনন্দবাজার পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কথাগুলো বলেন বাংলাদেশের এই অভিনেত্রী।

সৃজিতকে বিয়ে করেও বিশাল অন্যায় করেছেন বলে ধারণা অনেকের। তাই এ বিষয় নিয়েও কটাক্ষের শিকার হচ্ছেন মিথিলা। মিথিলা বলেন, ”সৃজিত তো ইসলাম ধর্মীও নয়। ওকে বিয়ে করে আমি বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে কলুষিত করেছি। আমি নাকি ‘চরিত্রহীন মা’।

এই ‘অসভ্য’ মা ‘অসভ্য’ জাতির জন্ম দেবে। এবার কিন্তু সময় এসেছে আমরা সবাই একসাথে মিলে, অনলাইন তথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই হয়রানি বন্ধ করার উদ্যোগ নিই। হয়রানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হোক সমস্বরে।”

সাক্ষাৎকারে সাবেক স্বামী তাহসান প্রসঙ্গে মিথিলা বলেন, ‘তাহসান আমার প্রাক্তন স্বামী। আমরা আজও বন্ধু। আমাদের রোজ কথা হয়। মানুষকে বুঝতে হবে আমরা দু’জনে একই বাচ্চার বাবা-মা। আমাদের সম্পর্কটা এখন বন্ধুর মতো। আর এই সম্পর্ক আয়রার জন্য খুব জরুরি।’

বাংলাদেশে থেকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে বর্তমান স্বামী সৃজিত মুখার্জি প্রসঙ্গে মিথিলা বলেন, ‘বিয়ের পরে আমি আর সৃজিত ৭ থেকে ৮ মাস একসঙ্গে থেকেছি। সীমান্ত খুললে জুলাইয়ে কলকাতায় যাওয়ার চেষ্টা করব।’

মিথিলা কলকাতায় অভিনয় প্রসঙ্গে বলেন, ‘কয়েকটা ছবিতে কাজ করার কথা হয়েছিল। কিন্তু লকডাউন শুরু হলো, সব কাজ বন্ধ। আর সৃজিত বউকে কোনোদিন ওর ছবিতে নেবে না। সৃজিতকে চিনি আমি।’

মিথিলা বর্তমানে ‘অমানুষ’ সিনেমার শুটিং করছেন। অনন্য মামুন পরিচালিত ছবিটিতে মিথিলার নায়ক হিসেবে আছেন নিরব। অভিনয়ের বাইরে মিথিলা ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের আর্লি চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্টের প্রধান হিসেবে কর্মরত।