সব বন্ধ, খোলা শুধু কিস্তি আদায়!

বন্দরনগরী বেনাপোলে এনজিওকর্মীরা লকডাউনের মধ্যে কিস্তি আদায়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এসব এনজিওকর্মীদের অত্যাচারে নাজেহাল হয়ে পড়েছে নিম্ন আয়ের ঋণগ্রহীতারা। ঋণের কিস্তি দিতে হিমশিম খাচ্ছে তারা।

ঋণগ্রহীতারা অধিকাংশ ছোটখাট ব্যবসায়ী। এছাড়া এসকল এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ইজিবাইক, থ্রি-হুইলার, ভ্যান, আলমসাধুসহ কিনে চালান অনেকে। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে চলমান লকডাউনে তাদের আয়ের উৎস বন্ধ থাকলেও বন্ধ নেই এনজিওর কিস্তি আদায়।

বেনাপোল পোর্ট থানার দিঘিরপাড়, ভবেরবেড়, নারানপুর, কাগজপুকুরসহ বেশ কটি গ্রামের ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, এসময় আমাদের খাবার জোগাড় করা কঠিন। তারপর এনজিওকর্মীরা মামলা-হামলার ভয় দেখিয়ে কিস্তি আদায় করছে।

দিঘিরপাড় গ্রামের আবুল হোসেন জানান, তিনি একটি ইজিবাইক কিনেছে লোন নিয়ে। এখন রাস্তায় গাড়ি চালানো নিষেধ। কিন্তু এনজিওকর্মীরা এসে ঋণের টাকার জন্য চাপ দিচ্ছে এবং হুমকি দিচ্ছে টাকা না দিলে ইজিবাইক নিয়ে যাবে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি এনজিও প্রতিষ্ঠানের ঋণ আদায়কারী কর্মচারী জানান, আমরাও চাকরি করি। প্রতিষ্ঠান থেকে আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে টাকা আদায়ে। ঠিকমতো কিস্তির টাকা আদায় করে অফিসে জমা দিতে না পারলে আমারও বেতন বন্ধ। চাকরিও হারাতে হতে পারে।

বেনাপোল পৌরসভার ৫ নম্বর দিঘিরপাড় ওয়ার্ডের কাউন্সিলার রাশেদ আলী বলেন, গ্রামের মানুষ তার নিকট অভিযোগ করছে। লকডাউনের মধ্যে তারা খেতে পারছে না। তারপর আবার কিস্তির জন্য চাপ। এটা অমানবিক।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর আলীফ রেজার কাছে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।