৩৬ বছর ভাত না খেয়ে বেঁচে আছেন সাতক্ষীরার জোহরা বিবি

মাছে ভাতে বাঙালি বাংলাদেশের একটি ব’হু প্রচলিত প্রবাদ।বা’ঙালির প্রধান খাবার ভাত। ভাত আমা'দের শরী’রের শর্করা উৎপাদনের প্রধান উৎস। ভাত শরীরের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ শ’ক্তির জোগান দেয়।

দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া জলবায়ু ধান উৎপাদনের উপযো’গী হওয়ায় হাজার হাজার বছর ধরে এ অঞ্চলের সকলের প্রিয় খাবার ভাত। ভাত ছাড়া তিন বেলা খাওয়ার কথা বা’ঙালি কল্পনাও করতে পারে না। তাই কেউ যদি ৩৬ বছর ভাত না খেয়ে দিব্যি সাধারণ জীবনযাপন করছে এমন কথা শুনলে অবা’ক না হয়ে পারা যায় না।

সাতক্ষীরা শহরতলী কুখরালী গ্রামের ৮৫ বছরের ব’য়োবৃ’'দ্ধা ১৫ সন্তানের জননী জোহরা বিবি গেলো ৩৬ বছর যাব'ৎ ভাত না খেয়েই রয়েছেন দিব্যি সুস্থ। জোহরা বিবি কয়েক বছর পূর্বে অজু করতে যেয়ে পড়ে সামনের চারটি দাঁ’ত হা’রায়। পরে আরও দু’টি দাঁত হা’রান এই বৃ'দ্ধা।

দন্তহী’ন মুখে ধীরে স্প'ষ্টভাবে জোহারা বিবি বলেন, আমা'র আব্বা মান্দার মোড়ল ভারতের বশিরহাট থা'নার মেজ দা’রোগা ছিল। সাকচুড়া আমা'দের গ্রামের নাম। ছোট বেলায় আব্বা আমা'র মোড়ল পরিবারে বিয়ে দেয়। আমা'র বয়স যখন তের বছর তখন আমা'র বড় ছেলের জন্ম হয়। বড় ছেলের বয়স এখন ৭১ বছর। আল্লাহ আমা'র ১৫ জন সন্তান দিয়েছে। আমা'র দুই জন ছেলে ও তিন জন মেয়ে মা’রা গেছে। আল্লাহর রহমতে ১০ জন সন্তান জী’বিত আছে, সাত জন ছেলে ও তিন জন মেয়ে।

আমা'র ছোট ছেলের জন্মের দুই তিন বছর পর আমা'র পেটে অনেক ব্য’থা য’ন্ত্র’ণা’ 'হত। ছেলেরা বিভিন্ন ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। ডাক্তার বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করে পে’ট কা’টতে হবে জানায়। কিন্তু আমি তো পেট কা’টবো না। পেটের য’ন্ত্র’ণায় আমা'র খাওয়া কমে যায়। তখন আমি শাকসবজি, তরিতরকারি আর মুড়ি খেতাম। এর পর থেকে আমা'র পেটের য’ন্ত্র’ণা ধীরে ধীরে কমে যায়।

এরপর থেকে আমি আর কখনো ভাত খায়নি। এখন সকালে বিস্কুট আর চা, দুপুরে মুড়ি ভিজিয়ে তরিতরকারি দিয়ে খায়, কখন কখন অল্প মাছ ও মাংস খাই, আর রাতে বিস্কুট আর চা খাই। আমি চশমা ছাড়া কোরআন শরিফ পড়তে পারি, তবে চশমা পড়লে ভাল হয়। পরদা শীল জোহরা বিবি হাসতে হাসতে বলেন শরিল (শরীর) আর আগের মত নেই, আস্তে আস্তে খারাপের দিকে যাচ্ছে, বয়স হচ্ছে তো।

জোহরা বিবির বড় ছেলে নুর ইসলাম মোড়ল জানান, মা’র ছোট বেলা থেকে পেটে একটু ব্যথা যন্ত্রণা ছিল। ১৯৮৩-৮৪ সালের দিকে পেটের য’ন্ত্র’ণা বৃ'দ্ধি পায়। আমর'া মা'র ডাক্তারের কাছে নিলে ডাক্তার জানায় টি’উমা’র হয়েছে অ’পারে’শন করতে হবে। কিন্তু মা অ’পা’রেশ’ন করবে না। ডাক্তারের ওষুধ খায় আর মা ভাত খাওয়া বাদ দেয় এতে মা’র পে’টে’র য’ন্ত্র’ণা ধীরে ধীরে কমে যায়।

১৯৮৫ সালের পর থেকে মা আর ভাত খায়নি। মা ভাত না খাওয়ায় প্রথমে আমর'া অনেক চিন্তিত ছিলাম কিন্তু মা সুস্থ থাকায় আমা'দের চিন্তা দূর হয়। তারপর থেকে মা যা খেতে চায় তা খাওয়ানোর চে'ষ্টা করি। আল্লাহর কাছে দোয়া করি মা সুস্থ থেকে বাকী জীবন পার করতে পারে।