কঠোর লকডাউনই ‘শাটডাউন’, ঘরবন্দি থাকতে হবে সবাইকে

টিকা, স্বাস্থ্যবিধি মানা আর নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন—এই তিন উপায়কেই এখন পর্যন্ত বিশ্বে করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই তিন কৌশল একই সঙ্গে প্রয়োগের কথাই জোর দিয়ে বলেন দেশি-বিদেশি সব বিশেষজ্ঞ।

কিন্তু বাংলাদেশে সব কটিই চলছে ছন্নছাড়া অবস্থায়। না মিলছে প্রত্যাশিত পরিমাণে টিকা, মানুষ না মানছে ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি আর না কার্যকর করা যাচ্ছে নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা। এর পরিণতিতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এখন দেশে বেপরোয়া।

এ অবস্থায় করোনা মোকাবেলায় সরকার গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির পরামর্শ মেনে আগামী সোমবার থেকে সাত দিন সারা দেশে কঠোর লকডাউন কার্যকর করা হবে। আজ শনিবার এ বিষয়ে বিস্তারিত আদেশ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

সোমবার থেকে সারা দেশে কঠোর লকডাউন : আগামী সোমবার থেকে শুরু হতে যাওয়া কঠোর লকডাউনে জরুরি পরিষেবা ছাড়া সব সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। জরুরি পণ্যবাহী ছাড়া সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। শুধু অ্যাম্বুল্যান্স ও চিকিৎসাসংক্রান্ত কাজে যানবাহন চলাচল করতে পারবে। জরুরি কারণ ছাড়া বাড়ির বাইরে কেউ বের হতে পারবে না। গণমাধ্যম এর আওতাবহির্ভূত থাকবে।

প্রধান তথ্য কর্মকর্তা জানান, এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত আদেশ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা হবে।

জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির প্রস্তাব : কমিটির সভায় প্রস্তাবিত ‘শাটডাউনের’ রূপরেখা কেমন হবে তা জানতে চাইলে সভায় উপস্থিত সূত্রগুলো জানায়, যাঁরা ওই প্রস্তাব দিয়েছেন তাঁরা ‘কারফিউ’ অবস্থার কথা বলেছেন। এ ক্ষেত্রে জরুরি সেবায় নিয়োজিত ছাড়া সব সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত, শিল্প-কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য, দোকান, রেস্তোরাঁসহ সব ধরনের বিপণিবিতান বন্ধ থাকবে। জরুরি কাজ ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হতে পারবে না। খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের জন্য দোকান-বাজার নির্দিষ্ট সময়ের জন্য খুলে আবার বন্ধ করে দেওয়া হবে।

আর যৌক্তিক জরুরি কাজ ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হলেই শাস্তির মুখে পড়তে হবে। এই ব্যবস্থা বাস্তবায়নে আগে যেহেতু সিভিল প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন কাজ করেও সুবিধা করতে পারেনি, তাই এবার প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর সহায়তা নেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরামর্শক কমিটিতে জোর দিয়েই বলা হয়েছে, মাত্র ১৪ দিন যদি কার্যকরভাবে সব কিছু বন্ধ রাখা যায় তবেই সুফল মিলবে। এমনকি আসন্ন ঈদুল আজহা ভালোভাবে কাটানো যাবে। তা না হলে সংক্রমণ দীর্ঘমেয়াদি হবে এবং মৃত্যু বাড়বে। একই সঙ্গে ভোগান্তি বাড়বে এবং কোরবানির ঈদ বিপর্যস্ত অবস্থায় কাটাতে হবে।