বিসিএসের স্বপ্ন পূরণ হলো না চিকিৎসক অন্তরার, বাবা হারালো দুই শিশু কন্যা

স্বামী-স্ত্রী দুজনই চিকিৎসক। স্বামী সিলেটে উইমেন্স মেডিকেল কলেজের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক আর তার স্ত্রী একই কলেজে ইন্টার্ন করছিলেন। এবার ৪২তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষার্থী ছিলেন স্ত্রী। স্বপ্ন ছিল বিসিএস পাস করে মানুষের সেবায় কাজ করবেন।

দুই সন্তানকে বাড়িতে রেখে বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য এনা বাসের চড়ে বসেছিলেন ডা. শারমিন আক্তার অন্তরা। সঙ্গে ছিলেন তার স্বামী প্রভাষক ডা. আল মাহমুদ সাদ ইমর'ান খান। রওনা দেন ঢাকার উদ্দেশে। তাদের ঘু’ম জ’ড়ানো চোখে ছিল স্বপ্ন পূরণের প্র'ত্যাশা। প্র'ত্যাশা ছিল কুয়াশা কে’টে তাদের জীবনে আলো আসবে। তবে সব আশা-প্র'ত্যাশার সমা’'প্ত ি ঘটে একনি’মে’ষেই।

শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের র'শিদপুরে ‘ম’র্মা’ন্তিক সড়ক দু'র্ঘ’ট’নায় প্রাণ হারান ডা. শারমিন আক্তার অন্তরার স্বামী ডা. আল মাহমুদ সাদ ইমর'ান খান। আর আ’হ’ত হয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ‘মৃ'’ত্যু’র সঙ্গে ল’ড়’ছেন অন্তরা। সিলেট নগরের রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. ইমর'ান খান ও ডা. অন্তরা দম্পতির রয়েছে দুই কন্যাসন্তান। তাদের একজনের বয়স তিন বছর ও আরেকজনের বয়স সাড়ে চার বছর। তারা নগরেরর ফাজিল চিস্ত এলাকায় বসবাস করতেন।

সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের অবসরপ্রা'প্ত অধ্যাপক আমজাদ হোসেন খানের ছেলে প্রখ্যাত প্যাথলজিস্ট ডা. ইমর'ানের খানের ‘মৃ'’ত্যু’তে নগরের রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ, বর্তমান কর্মস্থল সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে শো’কে’র ছা’য়া নেমে এসেছে।

এমন মৃ'’ত্যু’তে স্ত’ব্ধ হয়ে পড়েছেন দুটি প্রতিষ্ঠানের সহকর্মীরা। তারা এমন ‘মৃ'’ত্যু মেনে নিতে পারছেন না। পুত্র শো’কে কা’ত’র বাবা আমজাদ হোসেন এখন ব্যস্ত পুত্রবধূ ডা. অন্তরাকে কিভাবে বাঁ’চানো যায় সেই চে'ষ্টায়। দু’র্ঘট’না’র পর থেকেই হাসপাতালে অবস্থান করছেন।

নি’হ’ত ডা. ইমর'ানের বোন ডা. ইন্নরী খান বলেন, আমার ভাই তার তার স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকা যাচ্ছিলেন আমার ভাবি বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নেবেন বলে। সকালে এনা পরিবহনের একটি বাসে করে রওনা দেন তারা। যাওয়ার সময় তাদের দুই সন্তানকে আমা'দের কাছে রেখে যান। সকাল সাড়ে সাতটার দিকে খবর পেলাম তারা সড়ক দু’র্ঘট’না’য় শি’কা’র হয়েছেন। এতে আমার ভাই নি’হ’ত হন। ডা. ইমর'ানের শ্বশুর মো. আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, আমার মেয়ে শারমিনও উইমেন্স মেডিকেলে ইন্টার্ন করছে। সে চিকিৎসকদের বিশেষ বিসিএসে অংশ নিতে স্বামীকে নিয়ে সকালে সিলেট থেকে রওনা হয়েছে। এরপর সকালে খবর পেলাম সে মা’রা গেছে।

স্বজনরা জানান, ডাক্তার রুমেল দম্পতি সবসময় হাসিখুশি থাকতেন। রুমেল জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজের ১২ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। বর্তমানে সিলেট নগরীর উইমেন্স মেডিকেল কলেজে কর্মর'ত ছিলেন। তাদের দুই কন্যা শিশু রয়েছে। পরিবারের ৬ সদস্যের মধ্যে ৫ জন ডাক্তার। ডা. রুমেল এর মৃ'’ত্যু’র খবরে সকাল থেকে পরিবারে শোকের ছা’য়া’ নেমে এসেছে। পুত্র শো’কে মা বারবার মুর্ছা যাচ্ছেন। রুমেল দম্পতির দুই শিশু কন্যা তাদের নানির কাছে রয়েছে।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার সকালে সিলেটের ওসমানীনগর উপজে’লায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুটি বাসের মু’খোমু’খি সং’ঘ’র্ষ হয়। ম’র্মা’ন্তি’ক এ দু'র্ঘটনায় ঘটনাস্থলে নি’হ’ত হন চারজন এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আ'হতদের মধ্যে ‘মা’রা যান তিনজন। এ ঘটনায় আ’হ’ত ৩০ জনের চিকিৎসা হচ্ছে।