শর্মা খেতে গিয়ে মায়ের সঙ্গে লাশ হলো ছোট্ট সুবহানা

রাজধানীর মগবাজারের ওয়্যারলেস গেট এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে যে সাতজন নিহত হয়েছেন, তার মধ্যে একজন নারী ও তার শিশুসন্তান রয়েছে। তারা হলেন— জান্নাত বেগম (২৩) ও তার ৯ মাসের মেয়ে সুবহানা।

জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যায় শিশুসন্তানকে নিয়ে মগবাজার আড়ংয়ের উল্টো দিকে শর্মা হাউসে খেতে গিয়েছিলেন জান্নাত। বিস্ফোরণে মা-মেয়ে দুজনই গুরুতর আহত হন। পরে জান্নাতকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান। আর তার মেয়ে সুবহানা অন্য একটি হাসপাতালে মারা যায়।

রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ৭৯ নম্বর আউটার সার্কুলার রোডের পুরনো ওই তিনতলা ভবনে বিস্ফোরণের বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। তিনতলা ভবনটির একাংশ ধসে পড়ে; আশপাশের ডজনখানেক ভবনের কাচ চৌচির হয়ে ভেঙে পড়ে। সড়কে থাকা দুটি বাসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বিস্ফোরণের পর আহত অনেককেই উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবর পেয়ে হাসপাতালে স্বজনরা ছুটে আসেন। সেখানে রাতে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে মেঝেতে বসে হাউমাউ করে কাঁদতে দেখা যায় জান্নাতের স্বামী মো. সুজনকে।

স্ত্রী-সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা সুজন সাংবাদিকদের বলেন, সন্ধ্যায় মেয়ে সুবহানা আর ১৩ বছরের ভাই রাব্বিকে নিয়ে মগবাজার আড়ংয়ের উল্টো দিকে শর্মা হাউসে খেতে গিয়েছিলেন জান্নাত।

তিনি জানান, বিস্ফোরণের খবর শুনে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসে স্ত্রীর লাশ পেয়েছেন। ৯ মাসের মেয়ে আরেকটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা গেছে বলে স্বজনদের কাছে জানতে পেরেছেন।

জানা যায়, সুজনের স্ত্রী জান্নাতকে রাত ৯টার দিকে যখন হাসপাতালে আনা হয়, তার পুরো শরীর ধুলাবালিতে ভরা, ক্ষত আর রক্তও দেখা যাচ্ছিল। ট্রলিতে শুয়ে অপারেশন থিয়েটার পর্যন্ত যাওয়ার সময় জান্নাত বারবার শুধু একটি কথাই বলেছিলেন— ‘আমাকে বাঁচান, স্বামীকে ডাকেন।’ ঘণ্টা দেড়েক পর জান্নাতের স্বামী সুজন যখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছালেন, ততক্ষণে জান্নাত না ফেরার দেশে।

সুজন জানান, তার কিশোর শ্যালক রাব্বি আহতাবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি। হাসপাতাল থেকে যখন ট্রলিতে করে জান্নাতের মৃতদেহ বের করা হচ্ছিল, তখন আর সুজনকে আটকে রাখতে পারছিলেন না কেউ। স্ত্রীর লাশের কাছে গিয়ে বারবার তাকে ডেকে ওঠানোর চেষ্টা করছিলেন। তার কান্না আর আহাজারিতে উপস্থিত অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারছিলেন না।

স্বজনরা জানান, সুজন একটি ওষুধের দোকানে কাজ করেন। শর্মা হাউস নামে ওই রেস্তোরাঁ তাদের এক আত্মীয়ের। মেয়ে আর ভাইকে নিয়ে সন্ধ্যায় সেখানে বেড়াতে গিয়েছিলেন জান্নাত।