জানাজার জন্য হেফাজতির কাছে যাব না : এমপি মোকতাদির

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জে’লা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী কওমি মা'দরাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামকে উদ্দেশ করে বলেছেন, আমার জানাজার নামাজ তারা পড়াক আমি তা চাইনি।

আর আপনাদের বলে রাখি, কোনো মুসলমানের জানাজা নামাজ পড়াতে কোনো মৌলভীর সাহেবের প্রয়োজন নাই। যে কোনো মুসলমান জানাজার নামাজে দাঁড়িয়ে নিয়ত যদি বাংলায়ও করেন, যদি দোয়া না পারেন, তাহলে নামাজে দাঁড়িয়ে বলেন, আমি এই মাইয়াতের ক্ষ'মা প্রার্থনার জন্য জানাজার নামাজে দাঁড়ালাম তাহলেও হবে। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বললাম এই কথা।

তিনি বলেন, জানাজার নামাজ নিয়ে আপনারা মাথা ঘামাবেন না। এই খানের (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) মোল্লারা নাকি বলেছেন, ছাত্রলীগের জানাজা নাকি পড়াবেন না। এখানে ছাত্রলীগের যারা আছে তাদের ঘাবড়ানোর কিছু নাই। তোমা'দের জানাজার নামাজ তোমার বাবা-ভাই বা প্রয়োজন হলে আমি জানাজা পড়াব। সুতরাং তোমর'া জানাজা নিয়ে চিন্তা করবে না। কিন্তু আমর'া হেফাজতির কাছে যাব না এই কথা নিশ্চিত থাকো। হেফাজতিরা আমা'দের কাছে আসে।

সোমবার (২৯ মার্চ) ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী।

এসময় এমপি আরও বলেন, ‘অনেকে আমাকে দোষারোপ করার চেষ্টা করছেন। নিজেদের অ’পারগতা-ব্য'র্থতা ঢাকতে তারা এখন আমার ঘাড়ে দোষ চা’পানোর চেষ্টা করছেন। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বললাম,আমি কোনো উ’স্কা’নিমূলক কথা বলেনি। কেউ যদি দেখাতে পারেন আমি কোনো কথা উ’স্কা’নিমূলক বলেছি, আমি বিচারের সম্মুখীন 'হতে রাজি আছি।

এমপি মুকতাদির চৌধুরী বলেন, ‘আমি ৭০ বছর জীবনে বহু হরতাল দেখেছি। হরতালে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বাড়িতে হাম'লা 'হতে কোনোদিন দেখেনি। অথচ হেফাজতের হরতালে জে’লা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বাড়িসহ দলীয় বিভিন্ন নেতাকর্মীদের বাড়িতে হাম'লা করা হলো। ভূমি অফিসে হাম'লা করা হলো।’

তিনি বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভূমিদ’স্যুদের এক সি’ন্ডিকেট আছে। এই হাম'লার পেছনে যদি তারাও থেকে থাকে, এর দায় হেফাজতকেই নিতে হবে। অথচ হেফাজত প্রেস কনফারেন্স করে আমার বিচার চেয়েছে, আমাকে গা'লাগা'ল করেছে কিন্তু তদ'ন্ত দাবি করে নাই।’

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন জে’লা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি তাজ মোহাম্ম'দ ইয়াছিন', মুজিবুর রহমান বাবুল, জে’লা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আল মামুন সরকার, যুগ্ম-সম্পাদক মাহবুবুল বারী চৌধুরী মন্টু, সদর উপজে’লা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম ভূইয়া প্রমূখ।