লাশের ওপর ট্যাক্স বসিয়েছেন, কীভাবে ঢাকাবাসীর ভালোবাসা আশা করেন: তাপসকে খোকন

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিস ) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের জনপ্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন। তিনি বলেছেন, মেয়র তাপস কত পারসেন্ট ভোট পেয়েছেন এই শহরের মানুষ জানে।

মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সাঈদ খোকন। কথা বলার সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সাবেক এই মেয়র।

তাপসকে পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, যাইহোক ক্ষমতায় আছেন মানুষের কাজ করেন। আরে ভাই ঢাকার মরা লাশের ওপর ট্যাক্স বসিয়ে দিয়েছেন, কীভাবে ঢাকাবাসীর ভালোবাসা আশা করেন? আপনার ব্যর্থতার দায় ঢাকার জন্য আর মানুষ পান নাই। বারবার শুধু আমার ওপরই! কেন?

অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র মোহাম্মদ হানিফের ছেলে আওয়ামী লীগের জন্য পরিবারের ত্যাগের কথা তুলে ধরেন এসময়। বলেন, ‘১৯৮৭ সালে তৎকালীন ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের একজন সম্পাদক হিসেবে রাজনীতি শুরু। এ শহরের মানুষের জন্য দীর্ঘ ৩৩ বছরের রাজনীতি করেছি। মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় রাজপথে ছিলাম। মামলা খেয়েছি। কিন্তু রাজপথ ছাড়িনি। তবে কি আজকের এ অবস্থা দেখার জন্য? জাতির বিবেকের কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই, আপনারা বিবেচনা করবেন।’

নিজের ও পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করার পেছনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিস ) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের ইন্ধন রয়েছে বলে মনে করেন খোকন।

সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ‘তদন্ত করতে আমার এবং আমার পরিবারের কোনো আপত্তি নেই। দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করতেই পারে। কিন্তু একজন নাগরিক হিসেবে আমি কমিশনের নিরপেক্ষ ভূমিকা দেখতে চাই। আপনারা জানেন আমার পরিবার প্রায় এক শতাব্দী ধরে মানুষের সেবা করে আসছে।

আপনারা জানেন ঢাকার শেষ সরদার আলহাজ মাজেদ সরদার, তার মেয়ে আমার মা ফাতেমা হানিফ। তার ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করার মাধ্যমে আমার বৃদ্ধ মাকে হয়রানিমূলক আচরণের শিকার হতে হয়েছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। সন্দেহের বশবর্তী হয়ে একজন সম্মানিত মানুষের সম্মান ক্ষুণ্ন করা কোনো দিন কাম্য হতে পারে না।’

সাবেক এই মেয়র আরও বলেন, ‘ব্যাংক হিসাব জব্দ করার আগে দুর্নীতি দমন কমিশন আমার এবং আমার পরিবারের কোনো সদস্যকে কোনরূপ নোটিশ দেয়নি, কোনো আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে সরাসরি আদালতের মাধ্যমে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এমন কর্মকাণ্ডে আমার এবং আমার পরিবারের সদস্যদের মৌলিক এবং সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে।’