মৃত্যুর পর মেয়ের স্মৃতি কে বাঁচিয়ে রাখতে কম্পানি খুললেন বাবা, বাড়ি বাড়ি ওয়াশিং পাউডার বিক্রি করে কোটি টাকার মালিক

শুরুটা হয়েছিল দুঃখ দিয়ে। কিন্তু পরে সেই দুঃখ এমন একটি বিজ্ঞাপনের রূপ নিয়েছিল, যা আজও মানুষের কাছে সমানভাবে গ্রহণযোগ্য। আজও টেলিভিশনের পর্দায় এই বিজ্ঞাপনে দেখা যায়।

অনেকেই জানেন না যে এই ব্যবসার মধ্যে দিয়ে এক বাবা তার মেয়েকে চির অমর করে রেখেছেন সকলের কাছে। হ্যাঁ, কথা বলছি ওয়াশিং পাউডার নির্মা বিজ্ঞাপনের। এই বিজ্ঞাপনের একটি মেয়েকে দেখা যেত, যে ঘুরে ঘুরে নেচে নেচে বিজ্ঞাপনের গানটি গাইত। অনেকেই হয়তো আমরা জানি না মেয়েটির নাম ছিল নিরুপমা। নিরুপমা ওয়াশিং পাউডার ব্যবসা ছিল এই মেয়েটির নামে।

আসলে মামা যখন ছোট ছিল তখন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার সময় একটি এক্সিডেন্টে মারা যায়। ছোট শিশুদের মৃত্যুতে স্বাভাবিকভাবেই পরিবারের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। মেয়েটির বাবা তাকে খুবই ভালবাসতেন, এইভাবে মেয়ের চলে যাওয়া কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি তিনি।

এরপর তিনি তার নিজের মেয়ের নামে শুরু করলেন নির্মা ওয়াশিং পাউডারের ব্যবসা। মেডিসিটি বজায় রাখতে পাউডার প্যাকেটের ছবি প্রিন্ট করান।

গুজরাটের কর্সান ভাই প্যাটেল এইভাবে শুরু করে ছোট্ট ব্যবসাটি। মেয়ের মৃত্যুর পর তিন বছর ধরে এই পাউডারের ফর্মুলা তিনি তৈরি করেন। যদিও এই প্রতিষ্ঠা তিনি একদিনে পাননি। তিনি যখন সাইকেলে চেপে চাকরিতে যেতেন তখন তার আশে পাশের বাড়িতে বিক্রি করার চেষ্টা করতেন এই সাবানের প্যাকেটটি। সেই সময় গুঁড়ো পাউডারের দাম ছিল

প্রতি কেজি ১৫ টাকা। অপরদিকে নির্মা ওয়াশিং পাউডার, বিক্রি হতো তিন টাকা কেজিতে। স্বাভাবিকভাবেই মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত মানুষের মধ্যে এই সাবান এর চাহিদা বাড়তে শুরু করে।

একজন মানুষের তৈরি এই ব্যবসায়ে আজ ১৮ হাজার মানুষ কর্মরত। বছরে প্রায় ৭০ হাজার কোটির বেশি টার্নওভার এই কোম্পানির। চিরকালই করসান ভাই অন্য গুজরাটিদের মত ব্যবসা করতে চেয়েছিলেন কিন্তু পারিবারিক অবস্থার জন্য তা সম্ভব হয়নি। এরপর তিনি গুজরাট সরকারের খনন এবং ভূ-বিজ্ঞান বিভাগে চাকরি পেয়ে যান।

১৯৯৫ সালে তিনি আহমেদাবাদে নিরমা ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর ২০০৩ সালে ইন্সটিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট এবং নিরমা ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি স্থাপন করেন। তিনি নিজের মেয়ের নাম আজ লোকের মুখে মুখে ছড়িয়ে দিতে সমর্থ হয়েছেন।