‘আর্মি ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ বিধানের আওতায় মোতায়েন থাকবে সেনাবাহিনী

মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি চলছে বাংলাদেশে। ভারতীয় তথা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সামাজিক সংক্রমণ হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সারাদেশে কেবল ‘বিধিনিষেধ’ নয়, ‘কঠোর বিধিনিষেধ’ পালনের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।

এবারের কঠোর বিধিনিষেধের সামগ্রিক চিত্র আগের যেকোনো বিধিনিষেধের চেয়ে ভিন্নতর। জারি করা প্রজ্ঞাপন বাস্তবায়নে মাঠে নামানো হচ্ছে- সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি। বুধবার সকালে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এতে সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। কঠোর এই বিধিনিষেধ বাস্তবায়ন করতে পুলিশ-বিজিবির সঙ্গে মাঠে থাকবে সেনাবাহিনীও।

প্রজ্ঞাপনের ১. ১৮ ধারায় বলা হয়েছে, ‘আর্মি ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ বিধানের আওতায় মাঠ পর্যায়ের কার্যকর টহল নিশ্চিত করার জন্য সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনা মোতায়েন করবে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট স্থানীয় সেনা কমান্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত করবেন।

এছাড়াও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জেলা পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে সমন্বয় করে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, পুলিশ, র‍্যাব ও আনসার নিয়োগ ও টহল অধিক্ষেত্রে পদ্ধত্বি ও সময় নির্ধারণ করবেন। সে সঙ্গে স্থানীয়ভাবে বিশেষ কোন কার্যক্রমের প্রয়োজন হলে সে বিষয়ে পদক্ষেপ নিবেন। সংশ্লিষ্ট/বিভাগসমূহ এ বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা করবে।

জনসাধারণ ও যানবাহন চলাচল এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা বন্ধের বিষয়ে সরকার বিধিনিষেধ ও নিষেধাজ্ঞা পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ সময়ে জরুরি পরিষেবা প্রদানকারী কর্মরতরা ছাড়া এবং জরুরি কারণ ছাড়া ঘরের বাইরে কেউ বের হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এতে আরও বলা হয়, এ ছাড়া মাস্ক পরিধানসহ সব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়।

বিধিনিষেধের ১.১২ নম্বরে জানানো হয় কাঁচাবাজার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে। বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য বাণিজ্য সংগঠন/বাজার কর্তৃপক্ষ ও স্থাণীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

বিধিনিষেধের আওতার বাহিরে যে সব সেবা: আইনশৃঙ্খলা এবং জরুরি পরিসেবা, কৃষি পণ্য ও উপকরন, খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহণ, ত্রান বিতরণ, স্বাস্থ্য সেবা, কোভিড ১৯ টিকা প্রদান, রাজস্ব আদায় সম্পর্কিত কার্যাবলি, বিদুৎ, পানি, গ্যাস/জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, গণমাধ্যম, বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডাক সেবা, ব্যাংক, ফার্মেসি ও ফার্মাটিক্যালসহ অন্যান্য জরুরি/অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহের কর্মচারী ও যানবাহন প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে যাতায়ত করতে পারবে।

এছাড়া পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত ট্রাক, লরি, কাভার্ড ভ্যান, কার্গো, বন্দরসমূহের অফিস, কাচাবাজার।