চোখের সামনেই পুড়ে ছাই হলো আড়াই লাখ টাকা, পুড়ে গেছে জমির দলিলও

বরিশালের মেহে'ন্দীগঞ্জ উপজে’লার পশ্চিম কেউটিয়া গ্রামে মহসিন সিকদার নামক এক ব্যক্তির বসতঘরে আগু'ন দেয়ার অ'ভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে বেঁচে গেছেন ওই পরিবারের ৭ সদস্য।

আগু'নে নগদ প্রায় আড়াই লাখ টাকা এবং ১৪টি দলিল, স্বর্ণালংকারসহ ২০ লাখ টাকার মালামাল ছাই হয়েছে। ভেস্তে যেতে বসেছে জমি ক্রয়ের স্বপ্ন।

মহসিন বলেন, প্রতিদিনের মতো সোমবার রাতেও পরিবারের ৭ সদস্য খাবার খেয়ে ঘু'মাতে যাই। গভীর রাতে ঘরের পশ্চিম কোণ থেকে আগু'নের সূত্রপাত হয়। এরপর ধোঁয়ার গন্ধ আসায় বিছানা থেকে উঠে টিন পি'টিয়ে পরিবারের সকল সদস্যদের জাগিয়ে ঘর থেকে বের করি। এ সময় পার্শ্ববর্তী বাড়ির লোকজন টের পেয়ে তারাও ছুটে আসে। কিন্তু ধারেকাছে কোনো জলা'শয় না থাকায় আমা'দের চোখের সামনে ঘর ও ঘরে থাকা মালামাল ছাই হয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, ঘরে নগদ ২ লাখ ৩৮ হাজার টাকা ছিলো জমির দলিল করার জন্য। ওই টাকা পু'ড়ে গেছে। ২০০৫ সালে বসতঘরটি তৈরি করেন। ঘরের ভেতর ৩৫ মণ চাল, ফ্রিজ, স্টিল ও কাঠের আলমা'রি, খাট ও ২০টি মুরগিসহ বিভিন্ন ধরণের আসবাবপত্র ছিল। এছাড়া ১৪টি দলিল ও মেয়েদের ৩ ভরি স্বর্ণ, তাও পু'ড়ে ছাই হয়ে গেছে।

মহসিনের অ'ভিযোগ, তার বসতঘরের এক একর জমি পার্শ্ববর্তী এলাকার আলতাফ হাওলাদার কিনতে চায়। তবে ২০০৫ সালে যে দরে কিনেছে, সে দর দিতে চায়। কিন্তু তাতে মহসিন রাজি নয়। সে বর্তমান দরে ওই জমি 'বিক্রি করতে আগ্রহী। এতে ক্ষু'ব্ধ ছিল আলতাফ।

এছাড়া মেয়ের জামাই নিজাম হাওলাদারের সাথেও বিরোধ রয়েছে মহসিনের। মহসিন জানান, নিজামের প'রকী'য়া সম্পর্ক তার মেয়ে ধরে ফেলে। এরপর এ নিয়ে বিরোধের সৃ'ষ্টি হলে তিন সন্তানসহ তার মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। তারাও হু’মকি দিয়েছে। মহসিনের ধারণা, এদের মধ্যে কেউ পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকবে।

মহিসন বলেন, ২০০৫ সালে ৩ একর ৯৭ শতাংশ জমি কিনে সেখানে বসতঘরটি তুলে করে বসাবাস শুরু করেন। জমির মালিককে ৯ লাখ ১০ হাজার টাকা দেয়া হয়। আগামী সোমবার বাকি ২ লাখ ৩৮ হাজার টাকা দিয়ে দলিল করার কথা ছিল। এ কারণে ওই টাকা জোগাড় করে ঘরে রাখা হয়।

মঙ্গলবার 'বিকেল ৫টায় ঘটনাস্থলে থাকা মেহে'ন্দীগঞ্জ থা'নার এসআই মো. মিজান বলেন, ঘরের রান্নাঘর থেকে আগু'ন লাগেনি, তা নিশ্চিত। ক্ষ'তিগ্রস্ত মহসিন স্থানীয় আলতাফ হাওলাদার ও মেয়ের জামাই নিজাম হাওলাদারকে অ'ভিযুক্ত করেছেন। তদ'ন্ত সা'পেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।