এ টি এম শামসুজ্জামানের মৃত্যুর খবর জানেন না বন্ধু প্রবীর মিত্র

দুই গু'ণী অ’ভিনয়শিল্পী প্রবীর মিত্র ও সদ্য প্রয়াত এ টি এম শামসুজ্জামান ভাল বন্ধু ছিলেন। ছোট বেলা থেকে পুরান ঢাকার সূত্রাপুর একই স্কুলে লেখা পড়া করেছেন তারা। স্কুল ও মহল্লায় একসঙ্গে নাট্যচর্চা করেছেন। সুখ–দুঃখে একসঙ্গে ঢালিউডে কাটিয়েছেন বছরের পর বছর। একসময় নিয়মিত এফডিসিতে আড্ডা দিতেন তাঁরা। শনিবার এই বন্ধুদ্বয়ের একজন চলে গেলেন না ফেরার দেশে। বন্ধুকে হা’রানোর কথা এখনো জানানো হয়নি প্রবীর মিত্রকে।

এমনিতে নিজেও বয়সের ভা’রে ন্যুব্জ। কারও মৃ'’ত্যুসংবাদ শুনলেই ভেঙে পড়েন প্রবীর মিত্র। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে অ'স্বাভা'বিক আচরণ করেন। পরিবারের অন্যদের সঙ্গে কথা বন্ধ করে দেন। এসব তথ্য দিয়ে অ’ভিনেতার পুত্রবধূ সোনিয়া ইয়াসমিন আজ বুধবার জানান, তাঁর শ্বশুর সম্প্রতি নিজের ভাইকে হারিয়েছেন। সেই থেকেই তাঁর মনটা কিছুটা খা’রাপ। তিনি শোক সইতে পারেন না।

এই ঘটনার মধ্যেই জানতে পারেন এ টি এম শামসুজ্জামান মা’রা গেছেন। তাঁরা পারিবারিকভাবে সি'দ্ধান্ত নিয়েছেন, এই মুহূর্তে বন্ধুর মৃ'’ত্যুর কথা এই অ’ভিনেতাকে জানাবেন না। তিনি ক’'ষ্ট পাবেন।

সোনিয়া ইয়াসমিন বলেন, ‘আম’রা এখনই বাবাকে এ টি এম শামসুজ্জামান চাচার মৃ'’ত্যুর ব্যাপারে কিছুই জানাতে চাচ্ছি না। জানলে তিনি অ'স্থির হয়ে যাব'েন, ভেঙে পড়বেন। কিছুই খেতে চাইবেন না। এ জন্য এ টি এম চাচা মা’রা যাওয়ার দিন থেকে বাবার রুমে পত্রিকা দেওয়া হয় না। তাঁর ফোন বন্ধ করে রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া বাবার রুমের টিভিও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরিবার থেকে চাইছি কোনোভাবেই যেন বাবা এ টি এম চাচার মৃ'’ত্যুর খবর না জানুক। নতুন কোনো ক’'ষ্টের খবর তাঁকে দেওয়া নিষে'ধ।’

প্রবীণ দুই গু'ণী অ’ভিনেতা বয়সে ছিলেন এক বছরের ছোট–বড়। প্রবীর মিত্র ছিলেন বড়। তাঁর বয়স ৮০ বছর। দুজনের মধ্যে উচ্চ’মাধ্যমিকে পড়ার সময় ভালো বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। পরে তাঁরা মহল্লাতেই খেলাধুলা ও নাট্যচর্চা করে সময় কা’টাতেন। বিভিন্ন উৎসবে একসঙ্গে মহল্লার আয়োজনে অ’ভিনয় করতেন। বেশির ভাগ চিত্রনাট্য লেখার দায়িত্বে থাকতেন এ টি এম শামসুজ্জামান। বিভিন্ন সময় পুরান ঢাকায় বিভিন্ন স্থানে একসঙ্গে ঘুরতে বের 'হতেন। তাঁদের বন্ধুত্ব দিন দিন বেড়ে চলে। দুজনই চাইতেন চলচ্চিত্রে অ’ভিনয় করবেন।

প্রবীর মিত্র এবং এ টি এম শামসুজ্জামানের অনেকদিন দেখা না হলেও দুই পরিবারের মধ্যে কিছুটা যোগাযোগ 'হতো। প্রবীর মিত্রের খুব বেশি বন্ধু ছিল না। তাঁর একমাত্র জীবিত কাছের বন্ধু ছিলেন এ টি এম শামসুজ্জামান। সোনিয়া ইয়াসমিন জানান, গত মাসের শেষের দিকে প্রবীর মিত্রের পেটের কিছুটা সমস্যা দেখা দেয়। পরে সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে হাসপাতা’লে ভর্তি করা হয়।

এখন তাঁর শারীরিক অবস্থা কিছুটা ভালো। ২০১৭ সালের মে মাস থেকে বাসায় বিশ্রামে আছেন। শুটিংয়ের ব্যস্ততা ও কোলাহল থেকে দূরে। তারপর থেকেই তিনি অনেকটা নিঃসঙ্গ জীবন যাপন করছেন। এর মধ্যেই তিনি গত জুলাই মাসে করো’নায় আ’ক্রা'ন্ত হয়ে সেরে উঠেছেন।